আমিন হাসান ॥ দেশে এনজিওর ঋণের চাপে আত্মহত্যাকরার প্রবণতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত (২৩ মে) বৃহস্পতিবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর আদর্শ পাড়া এলাকার এক গৃহবধূ এনজিও কর্মীদের চাপ সহ্য না করতে পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। নিহত ঐ গৃহবধূর নাম সেলিনা খাতুন (৩৫)। তিনি খাজানগর এলাকার বাসিন্দা সোহেলর স্ত্রী ও একই এলাকার মোফাজ্জেল প্রামানিকের মেয়ে। ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং নিহত সেলিনা খাতুন নিহতের মা জামিলা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের জানান, আমার চার মেয়ের মধ্যে সেলিনা সবার বড়। সেলিনা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরি করে। গত দুই দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে। অভাবের সংসারে মেয়ে ও জামাই দুই জনই কাজ করে। জামাই কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে। তাও ভালো ভাবে সংসার চলে না। বাঁচার আশায় এনজিও থেকে ঋন নিয়েছিল। গত দুই মাস কিস্তি দিতে পারেনি। এনজিওর অফিসাররা প্রতিনিয়ত বাড়ির উপর এসে অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করা সহ অপমান অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করতো। এসব যন্ত্রনা সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ৩টি এনজিও থেকে লোন গ্রহণ করেছেন সেলিনা খাতুন। এরমধ্যে সেতু এনজিওর বটতৈল শাখা থেকে ২ লক্ষ টাকা, পলাশিপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা, শিরোপা খাজানগর আদর্শপাড়া গ্রামের সুদেল সম্রাজ্ঞী মরিয়ম এর কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা সুদে নিয়েছিলেন। এদিকে প্রতিনিয়ত এনজিওর ঋণের চাপে বাধ্য হয়ে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেও এনজিওদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না সরকার। অসহায়, হতদরিদ্র, অবহেলিত মানুষদের এনজিওর অমানুষিক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, ৫ বছর পূর্বে সেলিনা ও সোহেল দম্পতির বিয়ে হয়েছে। এখনো তাদের কোন সন্তান হয়নি। সেলিনা তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি আদর্শপাড়া গ্রামে থাকেন। আমরাও শুনেছি তারা দেনার দায়ে জর্জরিত। দুই এক দিন পর পর দেখি কিস্তি নেওয়ার জন্য সমিতির অফিসাররা বাড়ির উপর এসে বসে থাকে এবং টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। জানা যায়, সেলিনার আত্মহত্যার দিন সকালের দিকে সেতু এনজিও বটতৈল শাখার মাঠকর্মী কামরুল ও পলাশিপাড়া এনজিওর মাঠকর্মী সুমন সেলিনাকে পুলিশে দেওয়ার হুমকী সহ গালিগালাজ করে। এই অপমান সইতে না পেরে সেলিনা আত্মহত্যা করে। বিষয়টি নিয়ে ৪ নং বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু ফকির বলেন, এনজিও থেকে লোন নেওয়ার বিষয়টি আমি জানতাম। হয়তো এই সকল কারনে মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।
