কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট এর নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ!
কুষ্টিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তি ফরম বাবদ উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে উৎকোচ গ্রহনের সত্যতা পাওয়া যায়।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট এর নামে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ!
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে অর্থনীতিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এতদঞ্চলের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া শহরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর উদ্যোগে ২৩ শে অক্টোবর ২০০৩ সালে কুষ্টিয়া চৌড়হাসে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৬টি ট্রেডে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে বিভিন্ন অজুহাতে উৎকোচ গ্রহন করেন বর্তমান অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান। তিনি ২০১০ সালের ২১ জুলাই অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন।
ভর্তি ফরম নিতে আসা কয়েকজন ছাত্র জানান, আমরা ড্রাইভিং কোর্সে ভর্তি ফরম নিতে এসেছি। আমাদের কাছ থেকে রশিদ ছাড়া ২০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অল্প টাকা তাই কেউ কিছু বলছে না।
ভর্তি ফরম বিক্রয় করছিলেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওয়ার্কসপ এটেনডেন্ট আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন এখন পর্যন্ত ৫৬টা ভর্তি ফরম বিক্রয় করা হয়েছে। আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত ফরম বিক্রয় করা হবে। ফরম বিক্রয়ের টাকা ভর্তি পরিক্ষার দিন ম্যাজিস্ট্রেটের অনারিয়ামে খরচ হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের অনারিয়ামের নামে উৎকোচ গ্রহনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে প্রতিবেদকের কথা হয়েছে শুনে তিনি বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। কি বাবদ টাকা নিচ্ছি অনেকেই জিজ্ঞেস করে, তাদের বলতে বলতে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। আমার অন্যায় হয়ে গেছে।

এবিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কুষ্টিয়ার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন ভর্তি পরিক্ষায় যে ম্যাজিস্ট্রেট আসে তার অনারিয়াম দেওয়ার জন্য এই টাকাটা নেওয়া হচ্ছে। এই টাকার কোন রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে যে সামান্য টাকা নেওয়া হচ্ছে তা আমরা খাতায় লিখে রাখছি। তিনি জানান, আগামী ২০/২২ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি ফরম বিক্রয় করা হবে। এতে ২/৩ শ ফরম বিক্রয় করা হতে পারে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, সেখান থেকে ম্যাজিস্ট্রেট কোন অনারিয়াম গ্রহণ করেন না। আপনি বিষয়টা বললেন আমি দেখছি।
