গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পদ্মায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশী পর্যন্ত পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এসব এলাকার বালুমহালকে দেয়া ইজারা বাতিল করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পদ্মায় বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ
জনস্বার্থে করা এই সংক্রান্ত একটি রিটের শুনানি নিয়ে বুধবার (২৯ মার্চ) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে পাবনার পাকশি চ্যানেল পর্যন্ত পদ্মা নদীর তলদেশ হতে বাল্ক হেড বা ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পদ্মা গড়ায় নদী বিধৌত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহ অন্যান্য পাঁচটি উপজেলার আওতাভুক্ত অন্তত ২১ টি বালুমহল ১৪২৯ বঙ্গাব্দের জন্য ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন। তা সত্ত্বেও জেলা জুড়ে চলছে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন।
মহামান্য আইকোর্টের রিট পিটিশন ১১৪৩/২৩, ১৩০৯/১৪ ও ৬৫৬৯/১৫ এর ১৭-১২-২০২০ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের আদেশের প্রেক্ষিতে গৃহীত ব্যবস্থা অবগত করন প্রসঙ্গে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ নৌ পথের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং কতিপয় ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক Inland Water Transport Ordinance 1958 এর মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক গেজেট নোটিফিকেশন নং S.R.O 247-L/83 এর মাধ্যমে আরিচা নদী বন্দর ঘোষণা করা হয় অতঃপর উহা সংশোধন পূর্বক এস আর ও নং ২৯৪ আইন/২০১১ এর মাধ্যমে আরিচা নদী বন্দর এর বন্দর সীমানা পূর্ণ নির্ধারণ পূর্বক বিআইডব্লিউটিএ কে উক্ত নদী বন্দরের সংরক্ষণ (Conservator) নিযুক্ত করা হয়। The Ports Art 1908 এবং The Port Rules 1966 অনুযায়ী নদী বন্দরের সীমানভুক্ত এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ সংরক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বন্দর সীমানার বাহিরে বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধি মানা ২০১১ এর আলোকে কোন এলাকায় বালুমহল ঘোষনার পূর্বে স্থানীয় জেলা প্রশাসন হতে বিআইডব্লিউটিএ নিকট হাইড্রোগ্রাফি জরিপূর্বক নদীর তলদেশ থেকে মাটি/বালি নির্ধারণের অনুরোধ জানানো হলে সরকারি শুল্কহার মোতাবেক জরিপ ফি প্রাপ্তির পর বিআইডব্লিউটিএ জরিপ পূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকে অবহিত করা হয়।

উল্লেখ্য যে, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং বালুমহল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা বিধিমালা ২০১১ প্রণীত হওয়ার পর মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ এর অনুকূলে কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার অন্তর্গত পদ্মা ও গড়াই নদীর তলদেশ হতে দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে বালি উত্তোলনের বিষয়ে বিআইডব্লিউইউটি হতে কোন প্রকার অনুমতি প্রদান করা হয়নি। কেননা বালু মহল ঘোষণা পূর্বক উন্মুক্ত টেন্ডার এর মাধ্যমে বালু উত্তোলনের অনুমতি প্রদানের এখতিয়ার স্থানীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়ের। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১১৪৩/১৩, ১৩০৯/১৪, ও ৬৫৬৯/১৫ এর ১৭-১২ ২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখের আদেশের রায়ের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ মহামান্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগে সিপিএলহএ নং ২৬৭৫/২০২১, ২৬৭৬/২১, ও ২৬৭৭/২০২১ দায়ের করেছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এছাড়া রিট পিটিশন নম্বর ২৮৯৪/২০১৯, তারিখ ১১-১২-২০২২ এর বিষয়ে মহামান্য আদালত কর্তৃক অন্তবর্তী কালে নির্দেশনা রয়েছে যা বর্তমানেও বহাল আছে।। এই আদেশ অনুযায়ী বিআইডব্লিউইউটিএ কর্তৃক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হবে। তবে, রিট পিটিশন নং ২৮৯৪/২০১৯ মুলে প্রদত্ত মহামান্য আদালতে নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়ার পক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণের বাধ্যকতা রয়েছে মর্মে অত্র কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞ আইন উপদেষ্টা মতামত প্রদান করেছেন।
উপযুক্ত বিষয় ও সুত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মহোদয়ের সদর দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক জানানো যাচ্ছে যে, মেসার্স শাওন এন্টারপ্রাইজ কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার অন্তর্গত পদ্মা ও গড়াই নদীর তল দেশ হতে দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার দ্বারা বালু/মাটি উত্তলনের মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ১১৪৩/১৩, ১৩০৯/১৪ ,৬৫৬৯/১৫ এর চূড়ান্ত রায় এবং ৩৪৯৭/১০, ২৮৯৪/১৯ ও আপিল বিভাগের ২০৩৪/১০ এবং কনটেম্প পিটিশন নং ১৭/২১ রুল অবগত করন ও এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছেন। রিট পিটিশন নং ১১৪৩/১৩, ১৩০৯/১৪ , ৬৫৬৯/১৫ এর ১৭-১২-২০২০ খ্রিস্টাব্দ তারিখের আদেশ নিম্নরূপ।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত শাখা-২ এর ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৭ এর ২৩৭ নং পরিপত্র মোতাবেক রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা, গুরুত্ব ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এ প্রকল্পের ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ভালো উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সে মোতাবেক চলতি বছরে (মেয়াদ) (ক) পশ্চিম বাহিরচর বালুমহল (মিরপুর থানার মানা হতে চর দাদাপুর পর্যন্ত) (খ) ভেড়ামারা থানার পশ্চিম ও পূর্ব দাদাপুর বালু মহল এবং (গ) ভেড়ামারা থানার চর গোলাপনগর ও আরাজিসারা মৌজার বালুমহলের ইজারা বহির্ভূত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, নদীর নেভিগেশন চ্যানেল হতে অতিরিক্ত বালি উত্তোলন করা হলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে নদীর তীরবর্তী জনজীবন বিপন্ন হতে পারে।
