শত বছরের লালিত স্বপ্ন : কুমারখালী যদুবয়রা সেতুর দ্বার খুলছে ঈদের আগেই
শত বছরের লালিত স্বপ্ন : কুমারখালী যদুবয়রা সেতুর দ্বার খুলছে ঈদের আগেই। কুমারখালী যদুবয়রা সংযোগ সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় লাখো মানুষ। এ খবরে আনন্দিত দক্ষিণ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে। এখন অপেক্ষার বিভিন্ন পেশার মানুষ।

শত বছরের লালিত স্বপ্ন : কুমারখালী যদুবয়রা সেতুর দ্বার খুলছে ঈদের আগেই
শত বছরের লক্ষ- লক্ষ মানুষের লুকানো স্বপ্ন গড়াই সেতু, প্রস্তাবিত নাম (শহীদ গোলাম কিবরিয়া) সেতু আজ দৃশ্যমান। ঈদের আগেই খুলে দেওয়া হবে চলাচলের জন্য এমনটি জানানো হয়েছে এলজিইডি কার্যালয় থেকে। সেতু নির্মাণ কাজের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের ২৪ ঘন্টা কঠোর পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে স্বপ্নের সেতু। এই সেতু অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুমারখালী সংযোগ সেতুটি শত বছরের স্বপ্নপূরণ হতে যাওয়া সেতুটি ঘিরে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের লক্ষ মানুষের মধ্যে বইতে শুরু করছে আনন্দের জোয়ার। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ ১৭ এপ্রিল ২০১৯ সালে সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন। বর্তমানে সেতুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের কষ্ট-দুর্ভোগ লাঘব হবে সেতুটির কারণে । পাশাপাশি এ উপজেলার সঙ্গে ঝিনাইদহ ও মাগুরাসহ আশেপাশের জেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং দুরত্ব কমে আসবে এমনটি মনে করেন সাধারণ মানুষ। দক্ষিণ অঞ্চল এখানে, যদুবয়রা, পান্টি, চাদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া নামের পাঁচটি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে প্রায় সিংহভাগ মানুষের বসবাস।
এতে প্লিরের সংখ্যা ১২ টি, এব্যাটমেন্ট ২ টি, পাইলের সংখ্যা ১১২ টি, পিসি গার্ডার ৫২ টি, পাইলের দৈর্ঘ্য ৪৩ দশমিক ৫০ মিটার ও ২৬ দশমিক ৫ মিটার, পাইলের ডায়া এক হাজার মিলিমিটার, স্প্যান ১৩ টি, স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার, সেতুর চওড়া ৭ দশমিক ৩০ মিটার, ওয়াক ওয়ে রেলিংসহ মোট চওড়া এক দশমিক ২৫ মিটার, ওয়াকওয়েসহ মোট চওড়া ৯ দশমিক ৮০ মিটার, এ্যাপ্রোচ প্রটেকটিভ ওয়ার্ক ৩৫০ মিটার। গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুমারখালী-যদুবয়রা সংযোগ সেতুর নির্মাণ বাস্তবায়নকারী সংস্থা কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ।
৮৯ কোটি ৯১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যায়ে ৬৫০ মিটার দৈঘ্য পিসি গার্ডার সেতুটি ওয়াকওয়েসহ ৯ দশমিক ৮০ মিটার চওড়া । এ ছাড়াও সেতুটির দুই পাড়ে মোট ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্য এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হবে। নেশনটেক কমিউনিকেশন লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স যৌথভাবে সেতুটির নির্মাণ কাজ করেছে।

শত বছরের লালিত স্বপ্ন : কুমারখালী যদুবয়রা সেতুর দ্বার খুলছে ঈদের আগেই
৫ ইউনিয়নে লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস। বেশির ভাগ মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কুষ্টিয়া- কুমারখালী শহরে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর শুকনো মৌসুমে ধু – ধু বালুতে হেঁটে গড়াই নদী পার হওয়ার কষ্ট-বিড়ম্বনা দীর্ঘদিনের। কয়েক যুগ- যুগ ধরে এলাকার মানুষ গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণের আন্দোলন করে আসছিল।
যদুবয়রা ইউনিয়নের তৌহিদ মাষ্টার বলেন, বর্ষাকালে নৌকায় এই নদী পার হতে গিয়ে অনেক ছোট খাটো দুর্ঘটনায় পড়তে হয় ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেতুটি ৫ ইউনিয়ন বাসীর কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।
কৃষক আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, এই অঞ্চল কৃষি মুল ভরসা, আমাদের এখন থেকে সকাল বিকেল যখন খুশি কৃষি পণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়া আসা করতে পারবো। আগে তো’ ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বেশি টাকা দিয়ে নৌকা পার হতাম। এই সেতু অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতুর নির্মাণকারী নেলনটেক কমিউনিকেশন লিঃ এর ইন্জিনিয়ার মোঃ আসিফ আলী জানান, সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে। সেতুর রং ও অন্যান্য কিছু কাজ বাকি আছে, যা কয় এক মাস লাগবে। তবে সেতুর মুল কাজ শেষ হাওয়ায় চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে, সম্ভবত ঈদের আগেই।
যদুবয়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দীর্ঘ দিনের চাওয়া এই গড়াই সেতু কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
কুমারখালী পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান অরুন জানান, শত বছরের স্বপ কুমারখালী শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু আজ দৃশ্যমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হাত ধরেই এই সেতুর বাস্তবায়ন হয়েছে।

কুমারখালী যদুবয়রা সেতুর দ্বার খুলছে ঈদের আগেই
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ সেতু পরিদর্শনকালে বলেন, কুমারখালী বাসীর দীর্ঘ দিনের চাওয়া এই ব্রীজ। পুরোটাই জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের উপহার দিয়েছেন। এই ব্রীজ কে ঘিরে দুই পারেন মানুষের জন্য অকল্পনীয় স্বপ্ন রয়েছে যা আমরা এখনি নিরূপণ করা সম্ভব না। তবে দুই পাড়ের মানুষের অর্থনীতি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, এতে করে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কুষ্টিয়া জেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল রাজ্জাক সেতু পরিদর্শনকালে বলেন, সেতুর কাজ ৯৯% শেষ হয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে সেই কাজ গুলো করা হবে। সেতুর রাস্তায় কার্পেটিং শেষ হলেই সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে সেতুটি।
