ইবি হল ফিস্টে আবাসিক-অনাবাসিক পার্থক্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইবি হল ফিস্টে আবাসিক-অনাবাসিক পার্থক্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

ইবি প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উন্নত খাবার পরিবেশনের জন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ৬০ টাকা এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০ টাকা ফিস্ট মূল্য নির্ধারণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) হল প্রশাসন। হল ফিস্টে আবাসিক-অনাবাসিক মূল্য পার্থক্য থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, ‘আমরা হলে থাকি না কিন্তু বছরে একটা হল ফি দিয়ে থাকি। অন্যদিকে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী তারা আবাসিকতার টাকা দিয়ে হলে থাকে। তারা হলে থেকে সকল সুবিধা পাচ্ছে অথচ আমরা বঞ্চিত হচ্ছি।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে হল ফিস্ট দেয়া হয় সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্য করা হয়েছে। কোন যুক্তিতে আবাসিক অনাবাসিক ফিস্ট মূল্য পার্থক্য করা হয় আমার জানা নেই। এমনিতেই তারা শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা নিশ্চিত করতে পারেনি তার উপর অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্য করা হচ্ছে।’ রাকিব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ইবি প্রশাসন হলে সিট দিতে পারে না নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েও অনাবাসিক ছায়াদের সাথে এরকম বৈষম্য মানা যায়? হলে না থেকেও হলের নানা ফি দিতে হয় অথচো হলের বিজয় দিবস ফিস্ট আবাসিক ৬০ টাকা আর অনাবাসিক ১০০ টাকা ফি ধার্য করা এটা চরম বৈষম্য। বিষয় টা টাকার নয় বিষয় টা হচ্ছে দুজনেই ভার্সিটির যেখানে হল সিট দিতে পারে না জন্য বরং অনাবাসিক দের ফি কম তো ধরেই নি উল্টা বেশি ধরছে।

এইরকম বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবাই আওয়াজ উঠান। বিজয় দিবস ফিস্ট ফি সবার জন্য সমান হারে ধরতে হবে।’ শিবির কর্মী মো. তানজিল হোসাইন ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন, ‘সকল হলেই এভাবে বৈষম্য মূলক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এখানে অর্থের চেয়ে বড় ফোকাসিং বিষয় হলো অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ছোট করা হচ্ছে, তাদের উপর প্রকাশ্যই বৈষম্য করা হচ্ছে। অধিকাংশ হলেই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেও যৌক্তিক বিষয়টা বুঝাতে সক্ষম হয়নি। বড় কথা হলো সব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের নিকট যেতে হবে কেনো? ওনারা কি যৌক্তিকতা ও সমতা বুঝতে পারেন না? আগস্ট পরবর্তী সময়ে এমন বৈষম্য মূলক আচরণ বারংবার মেনে নেয়া হবে না।’ ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য রাফিজ আহমেদ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘যেই বৈষম্যের জন্য এত প্রাণ গেলো, তার পরও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈষম্য চলছে।

প্রশাসনের নিকট অনুরোধ, বিজয় দিবসের খাবারের টোকেনের মূল্য সংশোধন করে আবাসিক-অনাবাসিক সবার জন্য সমান মূল্য নির্ধারণ করুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সমানভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ। যারা আবাসিক হওয়ার সুযোগ পাননি, তারা কেন বেশি মূল্য দেবেন? প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত বদলে সব হলে সমান মূল্য নিশ্চিত না করলে এর ফল ভালো হবে না।’ ইবি শাখা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান ফেসবুক কমেন্টে মন্তব্য করেন, অনাবাসিক ছাত্ররা হলের সুবিধাগুলি অলমোস্ট কিছুই পায় না। কিন্তু হলের নানারকম ফি তাদের ঠিকই দিতে হয়।

আবাসিক ছাত্ররা স্বল্পব্যায়ে হলে বসবাস ও খাবারে সাবসিডি সহ হলের নানা সুবিধা পায়। অথচ বছরের দুই একটা ফিস্ট আয়োজন করলেও তাদের প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে খেতে হয় কেন? এই প্রশ্নের জবাব আমার ছাত্রজীবন থেকে অদ্যাবধি পাই নাই। এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘গতবারের থেকে জিনিসপত্রের দাম তো আর কমেনি। সেই হিসেবে মূল্য বাড়ানো যেত কিন্তু আমি বাড়াতে দেয়নি। প্রভোস্ট কাউন্সিলের মিটিংয়ে একমতের ভিত্তিতে ফিস্ট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিস্টের মূল্য আবাসিক অনাবাসিকদের জন্য লেবেল করা আসলে এখন সম্ভব না। তাছাড়া এটা গতবছরের ন্যায় হয়েছে।