বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন এলাকায় গভীর রাতে পৃথক দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অপরজনকে বেঁধে রেখে মালামাল লুটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী লাল চাঁদ (৩০) জানান, তিনি বাঁশগ্রাম বাজারে কলার ব্যবসা করেন। গত রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাঁশগ্রাম বাজার থেকে পদ্মনগরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে।
তাদের হাতে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং মাথায় অন্তত তিনটি আঘাত করে। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। লাল চাঁদ আরও জানান, হামলাকারীরা তাকে গুলি করার কথাও বলছিল। জ্ঞান ফিরে তিনি দেখেন তার ভ্যান ও টাকা রাখার ব্যাগ নিয়ে গেছে। ব্যাগে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল।
ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে ফেরার পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, একই এলাকায় শ্যামপুর গ্রামের জোয়াদ বিশ্বাসের ছেলে শামসুল আলম (৪২)-কেও বেঁধে রেখে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
তবে এ ঘটনায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, “আপনার (প্রতিবেদকের) কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম। সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ করেননি।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পরপর এমন ছিনতাইয়ের ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
