ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ নতুন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছেন। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় মাসের অভিভাবক শূন্যতা কাটিয়ে অবশেষে নতুন অভিভাবক পেলো ইবি। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছান ইবি উপাচার্য ড. নকিব নসরুল্লাহ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাকে বরণ করে নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে পৌঁছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সালাত আদায় করেন তিনি। সালাত আদায় শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং মুক্ত বাংলায় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন ড. নকিব।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় বিএনসিসি’র সদস্যরা তাঁকে গার্ড ওব অনার প্রদান করে। কর্মস্থলে আগমনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজ কার্যালয়ে যান নবনিযুক্ত উপাচার্য। এরপর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে কেন্দ্রীয় মসজিদে আছরের নামাজ আদায় করেন তিনি। জামায়াতের সাথে আছরের নামাজ আদায়ের পরে নামাজ শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিহত শিক্ষার্থীদের মাগফেরাত কামনায় এবং আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করা হয়।
এরপর প্রশাসন ভবন চত্বরে তাকে গার্ড ওব অনার প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও মুক্তবাংলা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীরাই বাংলাদেশকে দূষণমুক্ত করেছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য আর আমার উদ্দেশ্য একই। আমি কোন স্বার্থের জন্য না, কোন গুষ্ঠীর জন্য না। আমার কাজ হবে সত্য পথের কাজ। আল্লাহর নির্দেশিত পথের কাজ। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি একটি শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা করবো।
নিজে দুর্নীতি করবো না, অপরকেও দুর্নীতি করতে দেব না তার শতভাগ গ্যারান্টি দিলাম। তিনি আরও জানান, আমি এখানে ক্ষমতার জন্য আসিনি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছি। আমি এবং আমার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের বলয় থাকবে না। সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নিতে আমি কাজ করবো। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবো। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. আ ব ম ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থী ইমরান বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একজন সৎ, যোগ্য এবং ক্লিন ইমেজের একজন ব্যক্তিত্বকে উপাচার্য হিসেবে পাওয়া। আমাদের দাবীর প্রেক্ষিতে সেরকম একজন মানুষকেই আমরা উপাচার্য হিসেবে পেয়েছি। যেহেতু স্যার আগেও ইবিতে ছিলেন, তাই স্যারের উপর আমাদের আস্থা আছে। আশাকরি স্যার ইবিকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলবেন।
