বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র থাকা সময়ে প্রথম বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়া হাসান আলী নামে এক প্রার্থী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এগিয়ে রয়েছেন এমনটাই জানা গেছে। আওয়ামী লীগ আমলে ছাত্রলীগের সুবিধা নেয়ার পর এখন ভোল পাল্টিয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এই নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন অন্য চাকরি প্রত্যাশীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,সম্প্রতি ইবি ফার্মেসি বিভাগের প্রভাষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। ওই নিয়োগ বোর্ডে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের একজন ছিলেন হাসান আলী।
যিনি স্নাতক (অনার্স) পর্যায়ে একই বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৩.৫৩ অর্জন করেন। সহপাঠী ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, হাসান আলীর বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনা রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি রিটেক পরীক্ষার মাধ্যমে ওই কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার সিজিপিএ বাড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে তুলনামূলক কম মেধাক্রমে অবস্থান করা সত্ত্বেও লিখিত পরীক্ষায় তার অস্বাভাবিক ভালো ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য প্রার্থীদের দাবি,নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়েছিল। এমন অভিযোগ বিভিন্নভাবে প্রকাশ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার পর নিজেই “সব কমন পেয়েছি” বলে মন্তব্য করেছেন বলেও কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন। একাধিক গোপন সূত্রের বরাতে অভিযোগ উঠেছে,এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অনৈতিক উপায়ে প্রভাবিত করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষুব্ধ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী ইবি প্রশাসনের কাছে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড ও নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। যোগাযোগ করলে চাকরি প্রত্যাশী হাসান আলী বলেন,আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ গুজব।
বরং ক্যাম্পাসে আমি ছাত্রলীগের কাছে নির্যাতিত ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। আপনার বিরুদ্ধে হাসান আলীকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে প্রমন প্রশ্নের উত্তরে অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন,নিয়োগ বোর্ডের বিষয়ে ভিসি কিছু বলেন না। আপনি রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেন। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মন্জুরুল হক বলেন,“কে নকল করে পাশ করেছে, এই তথ্য আমার জানা নেই। লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হবে।
