বি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লব বিরোধী ভূমিকায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তকৃত ১৯ শিক্ষক ও ১১ জন কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে চাকরিতে যথারীতি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অভিযুক্তদেরকে ভবিষ্যতে সব সম্ভাব্য বিরোধ এড়িয়ে সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এর আগে, গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭১তম (সাধারণ) সভায় ১২৩ নম্বর সিদ্ধান্ত (পরিশিষ্ট-১২৩(গ)) মোতাবেক জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লব সময়কালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে বিপ্লব বিরোধী ভূমিকায় জড়িতদের অভিযোগের ধরন পর্যালোচনা, শাস্তির মাত্রা ও পরিমাণ নির্ধারণ এবং নতুন অভিযোগ গ্রহণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ একটি রিভিউ কমিটি গঠন করেন।
পরবর্তীতে রিভিউ কমিটির প্রদানকৃত রিপোর্টটির উপর মতামত প্রদানের নিমিত্তে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শে গত ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ২৭২তম সিন্ডিকেট সভায় একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সে মোতাবেক এক অবসরপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, অভিযুক্তদের বক্তব্য, রিভিউ কমিটির রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করে নিজের মতামত দেন।
সেখানে তিনি ‘তদন্ত কমিটি বা রিভিউ কমিটি ওংষধসরপ টহরাবৎংরঃু ঊসঢ়ষড়ুবব’ং ঊভভরপরবহপু ধহফ উরংপরঢ়ষরহব জঁষবং, ১৯৮৬ অনুসারে তাদের কাজ পরিচালনা করে নাই, কাজেই রিভিউ কমিটির শাস্তির প্রস্তাব ও সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া বা বাস্তবায়ন করা আইন সম্মত হবে না’ বলে মতামত পেশ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজকের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্তদের কড়া ভাষায় সতর্ক পূর্বক শাস্তি মওকুফ ও চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তবে জরুরি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপরীতে ভূমিকা নেওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে গত বছরের ১৫ মার্চ আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আকতার হোসেনকে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ, তথ্যচিত্র, ভিডিও ও পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটি ওই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জুলাই-আগস্ট বিপ্লববিরোধী ও দমনমূলক কার্যকলাপে সংশ্লিষ্টতা পায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত বছরের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৭১তম সভায় ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় ইবি প্রশাসন।
