ইবি প্রতিনিধি ॥ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় হাদি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া বাজার ঘুরে ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিনে দুপুরে লাশ পড়ে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ৩০ দিন পেরোলেও কোন শক্তির কারণে বিচার হচ্ছে না তা আমরা জানতে চাই। চব্বিশের অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশে আমাদের আশা ছিলো দেশে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম হবে। কিন্তু এতগুলো দিন পার হয়ে গেলেও আমরা উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি দেখিনি। শহীদ ওসমান হাদিকে আমরা আমাদের স্মৃতিপট থেকে মুছে যেতে দেব না। তার আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনাকে বুঝে আধিপত্যবাদীরা বুঝতে পেরে তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। আমরা হাদি ভাইয়ের উত্তরসূরী, আমরা হাদি ভাই হত্যার বিচার চাই। নারী শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান বলেন, যে আমাদের বিপ্লবের জন্য জীবন দিলেন, তার হত্যার বিচারের দাবিতে আজও আমাদের রাস্তায় নাময়ে হচ্ছে। কোন জুজুর ভয়ে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না তা আমরা জানতে চাই। প্রতিবছর র্যাব, পুলিশ সহ বিভিন্ন বাহিনীর জন্য লাখ লাখ টাকা বাজেট দেওয়া হলেও তারা আমাদের কোন কাজে লাগছে? ডিজিএফআই কি করতেছেন তা আমরা জানতে চাই। আমরা মনে করছি শর্সের মধ্যে ভূত আছে।
শিক্ষার্থী তানভীর মন্ডল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের সকল রহস্য উন্মোচন করতে হবে। শুটার ফয়সালসহ এই খুনের আদেশদাতা, পরিকল্পনাকারী সবাইকে সামনে আনতে হবে। নতুবা এই ইন্টারিম সরকারের উপদেষ্টাদের আমরা ঠিকভাবে ঘুমাতে দেব না, তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আমরা কিন্তু ব্যাহত করব। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি বিগত সময়ে স্বৈরাচার আওয়ামী শাসনামলে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল। সেটা ৫ই আগস্টের পরে কেন জানি ক্ষেত্রবিশেষ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দেখছি চট্টগ্রামের আইনজীবী আলিফ হত্যা থেকে শুরু করে ঢাবির শাহরিয়ার সাম্য, ব্যবসায়ী সোহাগ, শরীফ ওসমান হাদির পরেও আমাদের কারওয়ান বাজারের মোসাব্বির ভাইকেও হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপাচারের পর তার মৃত্যু হয়।
