ইবিতে সাজিদ-হাদি ও মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইবিতে সাজিদ-হাদি ও মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১০, ২০২৬

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা ও বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় এসব হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এসময় শিক্ষার্থীরা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘সাজিদ আব্দুল্লাহ কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘মুসাব্বির ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিনে দুপুরে লাশ পড়ে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’সহ নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ ভাই আমাদের এই ক্যাম্পাসে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত তার কোনো বিচার পাই নাই। শহীদ ওসমান বিন হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত তার বিচার পাই নাই। যার কারণেই শহীদ মুসাব্বিরকেও হত্যা করা হয়েছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত বিচার পাই নাই। আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ে ব্যর্থ হয়েছি। কারণ আমরা এই হত্যার বিচার আদায় করে নিতে পারি নাই।

এই ব্যর্থতার দায় আমাদেরকেই নিতে হবে। আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই এই হত্যাগুলোর বিচারের ব্যাপারে আরো বেশি তৎপর হোন। এই হত্যাগুলোর বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কখনো তাদের ভুলে যাবো না। আপনারা যদি ভেবে থাকেন যে একটা সময় আন্দোলন হওয়ার পরেই আমরা তাদেরকে ভুলে যাবো আমরা তাদের নিয়ে আর কথা বলবো না তাহলে এটা অনেক বড় ভুল ভাবছেন। তাদের বিচার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা কখনো রাজপথ ছাড়বো না। তিনি আরও বলেন, আমাদের এই দেশকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। একটা পক্ষ বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র থেকে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জুলাইয়ের ঐক্যকে ভেঙে দেওয়ার জন্য তারা কিছু লোককে কিছু এজেন্টকে কাজে লাগাচ্ছে। তাদের মুখ থেকে একটা কথা বের করিয়ে দিচ্ছে যেটার কারণে জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হচ্ছে বিভেদ তৈরি হচ্ছে।

আমাদের সাবধান হতে হবে। শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলার কি রকম অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে লজ্জার বিষয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করলে উনি আলুর উত্তর দেন, পেঁয়াজের উত্তর দেন। আজকে যদি শহীদ হাদির পূর্বে যারা হত্যার শিকার হয়েছে তাদের হত্যাকারীদের যদি বিচার করা হতো তাহলে হয়তো শহীদ হাদিকে হত্যার শিকার হতে হতো না। আজকে যদি শহীদ হাদির হত্যাকারীদের বিচার করা হতো তাহলে মুসাব্বির ভাইকে শহীদ হতে হতো না। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে।

আজ পর্যন্ত শুধু সে যে হত্যার শিকার হয়েছে এতটুকুই নিশ্চিত। কারা হত্যা করেছে সেইটা শনাক্ত হয়নি। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়নি। তাহলে ছয়টি মাস অতিবাহিত হয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি করলো? ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয় তারা সেটা বলুক। তারা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ করুক। অথচ যদি আমরা বিভিন্ন সময়ে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি কোন কর্মসূচি দেই তখনই প্রশাসনের গায়ে জ্বালা বেঁধে যায়। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পুকুর থেকে সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা যায়। একই বছরের গত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। পরে গত ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপাচারের পর তার মৃত্যু হয়। গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। পরদিন তিনি চিকিৎসাধীন মারা যান।