ইজারা ছাড়াই চলছে খোকসা খেয়া ঘাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ইজারা ছাড়াই চলছে খোকসা খেয়া ঘাট, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলার গড়াই নদীর খেয়াঘাট ইজারা ছাড়াই চলছে। বলতে গেলে ইচ্ছে মতো ঘাট চালাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মাঝিমাল্লা ও ঘাটের কর্মচারী দিয়ে টোলের টাকা হরিলুট করছে। এতে করে প্রতিদিনই হাজার হাজার টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এছাড়াও এই সময়ে নির্ধারিত টোলের অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে আদায়কারীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পারাপারকারীরা ।

জানা গেছে, খোকসা খেয়াঘাট নিয়ন্ত্রণ করে জেলা পরিষদ। নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের গত ৩০ জুনে ঘাটের ইজারার মেয়াদ শেষ হয়। ওই দিনই ঘাট ছাড়ার কথা থাকলেও । ঘাট ছাড়েনি ওসমানপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল রহমান । তার  মাঝিমাল্লা ও কর্মচারীদের দিয়ে ঘাটের টোল আদায় করছে। প্রতিদিনের আদায়কৃত টোল ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে তারা। তবে এতদিনেও বিষয়টি নজরে আসেনি জেলা পরিষদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আনিসুল পলাতক রয়েছে। এই সুযোগে স্থানীয় কিছু বিএনপির লোকজন। আনিসুল এর সঙ্গে মিনিমাইজ করে ঘাট চালাচ্ছে। সব অবৈধভাবে এই ঘাট চালাচ্ছে তারা। খোকসা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিনই চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ ও যানবাহন পারাপার হয়। মানুষের জন্য তিন টাকা নির্ধারন করা থাকলেও বর্তমানে নেওয়া হচ্ছে পাঁচ টাকা। মানুষসহ বাই সাইকেল পাঁচ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে দশ টাকা। মোটরসাইকেলসহ মানুষের কাছ থেকে দশ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে পনেরো থেকে বিশ টাকা। ঘাটে প্রতিদিনই টোল আদায় হয় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা।

এবিষয়ে খোকসা খেয়াঘাট কর্তৃপক্ষ বলেন,ঘাটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলা পরিষদ থেকে ঘাট নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদে ১০ লাখ টাকা জমার পে -অর্ডার তারা দিয়েছে। তাদের কাছে ঘাট ইজারা দেওয়ার অনুমতি পত্র দেখতে চাইলে। তারা দেখাতে পারেনি। গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিন দেখা যায়, ঘাটে পূর্বের  কর্মচারীরাই টোল আদায় করছেন। এবিষয় টোল আদায়কারী ওবাইদুল বলেন, জেলা পরিষদকে টাকা দিয়ে ঘাট চালাচ্ছে তারা। তাদের কাছে অনুমোদন এর কাগজ পত্র দেখতে চায়লে তিনি  ঘাট মালিকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন এই ঘাটে দশ থেকে পনেরো হাজার টাকা তোলা হয় ।

বর্তমান ঘাটের আদায়কারী রয়েল বলেন, ঘাটে ইজাদার আছে। তবে এই বিষয়ে জেলা পরিষদ কিছু বলেনি। লোকজনের পারাপার সচল রাখতে আমরা নৌকা চলমান রেখেছি। অবৈধ হলে জেলা পরিষদ টাকা তুলতে নিষেধ করে নাই। জানা যায়, ৩০ শে জুন ঘাঁটের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু পূর্বের ঘাট মালিকরায় সর্বোচ্চ ডাকদাতা হিসেবে টাকা আদায় করছেন। তবে তাদের এখনও ওয়ার্ক অর্ডার  পত্র হাতে দেওয়া হয়নি।

এই বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ শারমিন আখতার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। জেলা পরিষদ নিবার্হী কর্মকর্তা জয়লান আবেদীন এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের নিবার্হী কর্মকর্তা জয়লান আবেদীন, এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।