ভেড়ামারায় ইউপি সদস্যকে অপহরণ মামলার আসামীদের হুমকী
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের নির্বাচিত ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম মন্টুকে হত্যার হুমকী দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি অপহলন মামলার আসামী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য নিরাপত্তা চেয়ে ভেড়ামারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। সাধারণ ডায়েরী নং- ৫৪৮, তারিখ- ০৯/০৯/২০২৩ ইং।

ভেড়ামারায় ইউপি সদস্যকে অপহরণ মামলার আসামীদের হুমকী
সাধারণ ডায়েরী সূত্রে ও ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম মন্টুর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লজেন মোড়ে অবস্থানকালে চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য জহুরুল ইসলাম মন্টুকে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজসহ হত্যার হুমকী দেন চন্ডিপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী সর্দারের ছেলে একরামুল হক ডালিম, শামীম হোসেন ও কামাল পাশা। ইউপি সদস্য তাদের গালিগালাজ করার কারন জানতে চাইলে এবং নিষেধ করলে একরামুল হক ডালিম ও শামীম হোসেন তাকে হত্যার হুমকী দেন। উপস্থিত স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সটকে পড়তে বাধ্য হন। ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম মন্টুর সাথে কথা বলে জানা গেছে, চন্ডিপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী সর্দারের ছেলে একরামুল হক ডালিম, শামীম হোসেন ও কামাল পাশা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বেআইনী ও সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।
গত ২ মাস আগে চন্ডিপুর গ্রামের জাকারিয়া হোসাইনের মেয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া সোহাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে একরামুল হক ডালিমের ভাইয়ের ছেলে মাসুদ পারভেজ। নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ওই ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জহুরুল ইসলাম মন্টু অপহৃত স্কুলছাত্রীর পরিবারের অনুরোধে আসামীদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেন ওই স্কুলছাত্রীকে ফেরত দেওয়ার জন্য। ওই অপহরণের ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলার পর দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পর ওই মামলার ১ নং আসামী মাসুদ পারভেজ ও তার মা মোছাঃ পারুলা খাতুনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১ এর একটি চৌকস দল।
পরবর্তীতে আদালতে নেওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জেল হাজতে প্রেরনের আদেশ দেন। ওই মামলার আসামীরা গ্রেফতার ও জেল হাজতে যাওয়ার পর আসামীদের সহযোগিরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দিতে অনুরোধ করার কারণে এসকল হুমকী ধামকী দিয়ে যাচ্ছে।

চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ড সদস্য জহুরুল ইসলাম মন্টু আরোও জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় এখন আমার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপহরণ মামলায় ২জন গ্রেফতার হলেও একরামুল হক ডালিম, তার ভাই শামীম হোসেন ও অপর ভাই কামাল পাশা এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি ভেড়ামারা থানা পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরী করে অবহিত করেছি। আমার বা আমার পরিবারের কোন ক্ষতি হলে এর জন্য ওই অপহরণ মামলার আসামী একরামুল হক ডালিম, শামীম হোসেন ও কামাল পাশা দায়ী থাকবেন। অপহরণের বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের এলাকায় পাওয়া যায়নি।
