আ. লীগ আমলে বাড়ি ভাঙায় প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আ. লীগ আমলে বাড়ি ভাঙায় প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৮, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সোহেল রানা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে ঝাউতলা এলাকার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। সোহেল রানা জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে। আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কাওসার নামে এক হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোহেল রানা নামে ওই ব্যক্তি মটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার পথে ঝাউতলা এলাকায় আরেকটি মটরসাইকেলে থাকা তিনজন যুবক তার গতিরোধ করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে সোহেল রানাকে কুপাতে থাকে। বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন ও পথচারীরা হামলাকারীদের ধাওয়া দেন। এ সময় মটরসাইকেল ফেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে জনগণ কাওছার নামে একজনকে ধরে ফেলে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেই। স্থানীয়রা গুরুত্বর আহত অবস্থায় সোহেল রানাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, কব্জি থেকে হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। এছাড়া পায়েও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

বেলা তিনটার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহেল রানাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। জনতার হাতে আটক হওয়া হামলাকারী কাওছার বলেন, সোহেল রানা ও তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। সরকার পরিবর্তনের পর গ্রাম থেকে পালিয়ে সোহেল শহরে থাকেন। কাওছারের ভাষ্য, বিএনপি করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সোহেল রানা দুই দফায় তার বাড়ি ঘর ভাঙচুর করেছে। তার দাবি, সরকার পতনের পর দল পরিবর্তন করে সোহেল রানা আবারো গ্রামে অরাজকতার পাঁয়তারা করছে। এই জন্যই তার উপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষনিক সোহেল রানার পরিবারের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সাথে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে আহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।