আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামীরা কারাগারে বসেও সুযোগ সুবিধা ভোগ করে দিচ্ছেন নির্দেশনা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামীরা কারাগারে বসেও সুযোগ সুবিধা ভোগ করে দিচ্ছেন নির্দেশনা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী বাহিনী দমনে ভূমিকা রাখার কারনেই ইউ’পি চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টুকে হত্যা করা হয়েছে- এমন দাবি তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের।গত ৫ আগস্ট-২০২৪ সরকার পতনের পর প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় সন্ত্রাসীরা সংগঠিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যানকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।এরই মধ্যে গত ১৪-ই-অক্টোবর রাত ১০:১০ ঘটিকার সময় কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২,সিপিসি-১ পাবনা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার প্রধান আসামী তরিকুল ইসলাম টুকুকে গ্রেপ্তার করে দৌলতপুর থানার মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তথ্য সূত্রে জানাযায়,তরিকুল ইসলাম টুকু কিডনি সমস্যাজনিত রোগী।তাই শারিরীক অসুস্থতা কারনে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ হতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়,শারীরিক অবস্থার অবনতির কারনে আরো উচ্চ চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা কিডনি হাসপাতালে রেফার্ড করেন।ঢাকাতে চিকিৎসার জন্য তরিকুল ইসলাম টুকু ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগার হতে চিকিৎসা গ্রহন করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

কিন্তু তরিকুল ইসলাম টুকু ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারের কারারক্ষীদের উৎকোচের বিনিময়ে, মোবাইলফোন ও সাক্ষাতের মাধ্যমে নানান দিক নির্দেশনা প্রদান করছেন সাক্ষাৎকারীদের ও মোবাইলে কথাবলা সেই ব্যাক্তিদের মাধ্যমে।এতে পরবর্তীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা ও বাইরে অবস্থানকৃত আসামীরা সচেতন হয়ে পড়ার কারন,আসামীদের গ্রেফতার করা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের।বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে কুষ্টিয়া দৌলতপুর ফিলিপনগর ইউনিয়নের সেন্টু চেয়ারম্যানের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।এদিকে একই ঘটনার সাথে জড়িত কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা মামলার ৬ নং এজাহারভুক্ত আসামীকে গত ২৪-অক্টোবর রাতে গ্রেফতার করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ লক্ষীপুর জেলা থেকে।

গ্রেফতার পর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কিলিং মিশনের অংশ গ্রহনের বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর দৌলতপুর থানা পুলিশ আসামীকে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার পাঠায়,আলোচিত সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যা এই ৬ নং আসামীয়ো কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে বাহির হতে সাক্ষাতের সুযোগে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করছেন সাক্ষাৎকারীদের মাধ্যমে।এতে বাহিরে অবস্থাানরত হত্যাকারীরা সচেতন হয়ে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।সুতরাং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে ব্যার্থতার সম্মুখীন হচ্ছে।এদিকে টুকুর বিষয়ে আরও কিছু অপরাধের তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।টুকুর বর্তমান বাড়ী পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার স্কুলপাড়া পশ্চিম (স্কুলপাড়া চারা বটতৈলা)এলাকাতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,তরিকুল ইসলাম টুকু দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যাবসা করে আসছিলো।

গত ৩১/০৩/২০২১ ইং তারিখে তরিকুল ইসলাম টুকু স্থানীয়  আনোয়ারা বেগম(৬৫) নামের এক বয়স্ক মহিলাকে জবাই করে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই মহিলার ছেলে গত ০২/০৪/২০২১ ইং তারিখে ঈশ্বরদী থানাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলাটি বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে পাবনা পিবিআই তদন্ত করছে।যার মামলা নং-০৩, তারিখ ০২/০৪/২০২১ ইং ।সরেজমিনে এলাকার মানুষ ও নিহত চেয়ারম্যান সেন্টুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এর মধ্যে অন্যতম ছিল লালচাঁদ বাহিনী। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের প্রশ্রয়ে লালচাঁদ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলে বলে অভিযোগ। দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ এই বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছিল।

সূত্র জানায়, সে সময় চেয়ারম্যান নঈম উদ্দীন সেন্টুও ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর তোপের মুখে পড়ে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে সেন্টু তার ভাই শিল্পপতি আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে তদবির করে ফিলিপনগর এলাকায় একটি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপন করেন।এরপর র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মারা যায়।লালচাঁদ বাহিনীর অনেকে এলাকাছাড়া হয়।এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই বাহিনীর সদস্যরা সংগঠিত হয়ে চেয়ারম্যান সেন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা করে।দৌলতপুরে বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানাযায়,সেন্টু চেয়ারম্যান হত্যার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের পুষ্ঠতা,মামা-ভাগিনার সম্পর্কের ভাগিনা,কিলিং মিশনের মাস্টারমাইন্ড এজাহারভুক্ত গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী তরিকুল ইসলাম টুকু। এছাড়া স্থানীয় সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলাম টুকুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে চেয়ারম্যান সেন্টু প্রতিবাদ করতেন,আর এই প্রতিবাদের কারনেই টুকুর সাথে বিরোধ ছিল।তাই পথের কাঁটা সরাতে টুকু চেয়ারম্যান সেন্টুকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটে বলে এলাকার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।

হত্যার পরিকল্পনাকারী সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলাম টুকুর পরিচয় তাঁর বাবা প্রয়াত মহির উদ্দীন(মহির ঠাকুর),ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ঠিক পেছনে তরিকুল ইসলাম টুকুর বাড়ি।সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলাম টুকু ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সে নিজের পরিচয় দিতো বলে জানায় এলাকার অনেকে।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই টুকু এলাকার কিছু কিশোর ও উঠতি যুবকদের নিয়ে একটি গ্রুপ তৈরি করে। একটি সূত্র জানায়,সন্ত্রাসী তরিকুল ইসলাম টুকুর পরিকল্পনায় মোট ৮ জন, চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টু হত্যায় অংশ নেয়,এর মধ্যে ৬ জন ছিলো অস্রধারী।

কিলিং মিশনকারীদের সহযোগিতায় ছিলেন প্রায় ১৪ জন।হত্যায় অংশ নেওয়াদের ব্যাকআপ দিতে অদূরেই পদ্মা নদীতে নৌকায় অপেক্ষায় ছিল তরিকুল ইসলাম টুকু সহযোগীরা।এদিকে নিহত সেন্টুর চেয়ারম্যান হত্যার আরেকটি তথ্য সূত্র বলেন,নঈম উদ্দীন সেন্টু চেয়ারম্যানকে টুকু সহ তাঁর গংরা পদত্যাগ করতে বলেছিলেন,পদত্যাগ না করার কারনে সরিয়ে দিয়ে চেয়ারম্যান হতে চাইছিল তরিকুল ইসলাম টুকু। সেন্টু চেয়ারম্যানকে হত্যার পূর্বে টুকু বেশ কিছুদিন থেকে হুমকি দিচ্ছিল।তবে কারাগারে অবস্থানরত হাজতি আসামী নাঈম ও তরিকুল ইসলাম টুকুর উল্লেখিত বিষয়ে কুষ্টিয়া জেল সুপারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,বিষয়টি আপনি  অবগত করলেন,আমি জেলারকে বলেদিচ্ছি,তিনি বিষয়টি ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন।