কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ২৫, ২০২৩
কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শনিবার ২৫ শে মার্চ সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্ত্বরের বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক মঞ্চে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়ায় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক আরিফ উজ জামান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ।আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার আব্দুস সালাম তরফদার, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পিপি এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম ।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

আলোচনা সভায় এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশসিক (রাজস্ব) নাসরিন বানু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ ন ম আবুজর গিফারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাহমিনা আক্তার রেইনা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা ) সিফাতুন নাহার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা ) কাজী শারমিন নেওয়াজ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেভিনিউ মুন্সিখানা শাখা) তানভীর হায়দার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) স্বরূপ মুহুরী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ট্রেজারী ও স্ট্যাম্প শাখা এবং নেজারত শাখা) শাহেদ আরমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেকর্ডরুম শাখা) ঈষিতা আক্তার, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস এবং সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা দবির উদ্দিন বিশ্বাস সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপর খাইরুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ হতো না, তাঁর জন্ম না হলে আমরা দেশ ও জাতির উন্নয়নে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারতাম না । ২৫ শে মার্চ সমগ্র বাঙালী জাতির জন্য এক কালো রাত্রি । এই রাতে পাকিস্থানী বাহিনী অতর্কিত ভাবে বাঙালি জাতিগর উপর আক্রমন করে নির্মমভাবে জাতির শ্রেষ্ট্র সন্তানদের হত্যা করে । এই উপ মহাদেশের সংস্কৃতিতে এর আগে এরকম কিছু ঘটেনি ।

পুলিশ সুপর খাইরুল আলম আরো বলেন, তৎকালীন সময়ে শিক্ষা, শিল্প, সাহিত্যে যারা উন্নত ছিলো, বিশেষ করে বৃটিশ সম্রাজ্য এবং তাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৬০৮ সালে প্রথম তারা ব্যবসা বাণিজ্য করার জন্য এই উপমহাদেশে আসে । তারা রাণী প্রথম এলিজাবেথ এর অনুমতি নিয়ে এই উপমহাদেশে আসে । কিন্তু তাঁরা শুধু মাত্র ব্যবসা বাণিজ্য নয়, প্রকারান্তে সমগ্র ভারতবর্ষ তাদের আয়ত্তে নেওয়ায় তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো । তারা আমাদের ভিতর দ্বন্দ বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো । তারা হিন্দুর সাথে হিন্দুর, হিন্দুর সাথে মুসলমানের বিভেদ বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতো ।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, সেই সময় ভারত বর্ষে এক টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যেত, সুখ শান্তির কোন অভাব ছিলো না । কিন্তু ব্রিটিশরা জানত এদের নিজেদের ভিতর যদি দ্ব›দ্ব বাধিয়ে দেওয়া যায় তাহলে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে সুবিধা হবে । তাই ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মাধ্যমে এদেশের মানুষের মাঝে দ্ব›দ্ব বাধিয়ে দেওয়া শুরু করলো । সেই সময় ভারতবর্ষে সংখ্যা গরিষ্ট দুটি জাতি হিন্দু ও মুসলমান সহ আরো প্রায় ১৭ টি জাতি ছিলো । ই্স্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এক পর্যায়ে এদেশের মানুষকে অনেক শাসন শোষন করেছে । তারা ব্রিটিশ রয়েল ফোর্স এদেশে গঠন করেছিলো । সেখানে তাদের দেশের লোকজন কমান্ডার হিসাবে ছিলো । তারা এদেশের লোকজনের মাধ্যেমেই শাসন করতো । এরপর এদেশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নিলো ব্রিটিশদের তারা এদেশ থেকে বিতাড়িত করবে এবং ব্রিটিশরা যখন বুঝলো তাদেরকে এদেশ ছাড়তে হবে, তখন তারা এদেশের বিভিন্ন জাতির ভিতর এমন ভাবে সন্দেহ এবং দ্ব›দ্ব বাখিয়ে দিলো, তখন ভারত বর্ষের মানুষ একসাথে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিলো । অবশেষ ১৯৪০ সালে উপস্থাপিত হলো লাহোর প্রস্তাব । যা দ্বিজাতী তত্ত¡ নামে পরিচিত । যার ফলে সৃষ্টি হয় হিন্দুস্থান ও পাকিস্থান । এরপর ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর তারা ক্ষমতায় এসে দ্বিজাতী তত্ত¡ বাস্তবায়ন করে এদেশ থেকে চলে যায় । তখন ভারতবর্ষ ভাগ হলো । পাকিস্থান ও ভারত যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ আগস্ট তাদের জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষনা করলো । তখনও কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য উন্নয়ন হয়নি । বাংলাদেশ তখন পশ্চিম পাকিস্থানের কলোনী হিসাবে ছিলো । ঠিক ব্রিটিশরা সেভাবে ভারতবর্ষকে শাসন করে সমস্ত সম্পদ ইংল্যান্ড এ নিয়ে যেত, পাকিস্থানও আমাদের সাথে একই কাজ করতো । আমরা যাতে বাংলা ভাষা ব্যবহার না করতে পারি পাকিস্থান সেই ব্যবস্থাও করতে চেয়েছিলো । ব্রিটিশরা কিন্তু কখনোই ভাষার উপর আঘাত হানেনি । কিন্তু পশ্চিম পাকিস্থানিরা প্রথমেই আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষা ধ্বংস করতে চেয়েছিলো । কায়েদী আজম ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষনা দিলো উর্দুই হবে একমাত্র পাকিস্থানের রাষ্ট্রীয় ভাষা । অন্য কোন ভাষা নয় । এরপর অনেক শাসন, শোষন এবং নীপিড়ন তারা এদেশের মানুষের উপর করতে থাকে । তারপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বুঝতে পারলেন এই পাকিস্থানী নামক ভূত বা প্রেতাত্বা যারা আছে তাদেরকে এদেশ থেকে তাড়া তে না পারলে এদেশের মানুষের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন হবে না । আমাদের নিজস্ব সক্রিয়তা থাকবে না । এরপর বাঙালী জাতি বঙ্গবন্ধু’র নেতৃত্বে একতা বদ্ধ হলো এবং বঙ্গবন্ধু একটি অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন । কিন্তু পশ্চিম পাকিস্থানীরা জানতেন নির্বাচনে তারা জয়লাভ করতে পারবে না এবং নির্বাচনে হেরে তারা ২৫ শে মার্চ ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ চালায় ।

সভাপতির বক্তব্যের শুরুতে জেলা প্রশাসক মোহম্মদ সাইদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট কালো রাতে শাহাদৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ সহ জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো দুই লক্ষ মা বোনদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ।

জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, ২৫ মার্চ ইতিহাসের এক জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ । আমরা জানি যে ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করার সত্ত্বেও পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর করতে গড়িমসি করেছিলো, কাল ক্ষেপন করেছিলো । যাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করতে হয় সেই বিষয়ে অচালবস্থার সৃষ্টি করেছিলো । আলোচনার নামে তারা সময় ক্ষেপন করেছিলো ।

জেলা প্রশাসক মোহম্মদ সাইদুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা সকলেই জানি, সেই সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বলিষ্ট নেতৃত্বে, তার আহবানে এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে । বঙ্গবন্ধুর আহবানে মুক্তিযুদ্ধ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ৯ মাস রক্ষক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের পরে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর আমাদের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় ।

মোহম্মদ সাইদুল ইসলাম আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ, সেই আদর্শ আমরা প্রত্যেকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এবং প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখি, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার সেই কাজে আমরা প্রত্যেকে আত্মত্যাগ করবো ।

আরও পড়ুন: