কুষ্টিয়ায় নতুন ১৭ জাতের আলু ফসলের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
রপ্তানি ও শিল্পের ব্যবহারের উপযোগী নতুন ১৭ জাতের আলু চাষ করেছে কুষ্টিয়া বিএডিসি। জেলার সদর উপজেলায় ১.৭০ একর জমিতে পরীক্ষামুলকভাবে এসব জাতের আলু চাষ করা হয়। প্রচলিত জাতের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অধিক হওয়ায় এসব জাতের আলু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন জেলার কৃষকরা।

কুষ্টিয়ায় নতুন ১৭ জাতের আলু ফসলের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত
সরকারের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিএডিসির এই উদ্যোগ দেশে বড় ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এ উপলক্ষে বুধবার দিনব্যাপী প্লট প্রদর্শনী ও মাল্টি লোকেশন পারফরমেন্স যাচাই ও মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
উক্ত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে বিএডিসি কুষ্টিয়া অঞ্চলের যুগ্ম-পরিচালক(সার) ওসমান গনীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএডিসি কুষ্টিয়া হিমাগারের উপ-পরিচালক(আলু বীজ) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া বিএডিসির পাট বীজ বিভাগের উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবীর, বীজ বিতরণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবদুর রহমান, বারি’র উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জাহান আল মাহমুদ এবং এসআরডিআই এর উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শফিকুল মওলা।
বিএডিসি সুত্রে জানা যায়, ২০২২-২০২৩ মৌসুমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে মাল্টি লোকেশন পারফরমেন্স যাচাইয়ের লক্ষে ১.৭০ একর জমিতে নতুন ১৭ জাতের আলুর প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করে কুষ্টিয়া বিএডিসি হিমাগার। মানসম্মত বীজ আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পের অর্থায়নে পরীক্ষামুলকভাবে এসব জাতের আলু চাষ করা হয়।
জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে সানশাইন, প্রাডা, সান্তানা, এডিসন, কুইন এনি, ল্যাবেলাসহ আরো কয়েকটি জাত। এসব আলুর হেক্টর প্রতি ফলন প্রায় ৪০ টনের অধিক যা প্রচলিত জাতের তুলনায় অনেক বেশি। এসব আলু ড্রাই ম্যাটার বেশি হওয়ায় রপ্তানি ও শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী এবং রোগ-বালাই প্রতিরোধী।

বিএডিসির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৫ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১.৬ কোটি টন আলু উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে দেশের চাহিদা মেটাতে ৭০-৭৫ লাখ টন আলু ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট আলু রোগ বালাইয়ের কারণে ও ভালো জাত না হওয়ায় বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হয় না। এসব জাতের আলু চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
বিএডিসি কুষ্টিয়া হিমাগারের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, প্রচলিত জাতের আলুর ফলন হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২২ টন। কিন্তু নতুন এসব জাতের আলুর ফলন ৪০ টনের ওপরে। পুরাতন জাতের চেয়ে নতুন জাতের আলুর ফলন দ্বিগুণ। একই খরচে অধিক ফলনের পাশাপাশি জমি কম ব্যবহার করা যাবে। এ কর্মকর্তা মনে করেন, দেশে প্রচলিত পুরাতন জাতের পরিবর্তে বিএডিসির আমদানীকৃত নতুন জাতের আলুর বীজ কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে আলুর ফলন বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট এক মাইলফলক অর্জিত হবে।
