ঢাকা অফিস ॥ কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে যশোর ও মাগুরার আদালতে মানহানির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মেহেদী হাসান (জিল্লু) একটি মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আয়োজিত একটি মাহফিলে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অশালীন ও সম্মানহানিকর বক্তব্য দেন। একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এমন বক্তব্য শুধু কোকোর ব্যক্তিগত মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেনি; বরং এতে পুরো জিয়া পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। ওই বক্তব্যের কারণে কোকো ও তার পরিবারকে নিয়ে জনসমক্ষে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও আপত্তিকর।
১৭ জানুয়ারি যশোর শহরের লালদীঘিরপাড়ে অবস্থিত বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি (বাদী) অনলাইনে ওই বক্তব্যের ভিডিও দেখতে পান। বক্তব্যটি শুনে তিনি গভীরভাবে হতবাক ও মর্মাহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে মেহেদী হাসান বলেন, এ ধরনের কটূক্তি ও অসম্মানজনক বক্তব্য জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের আবেগ ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। এজন্য মামলা করেছি। বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ গফুর বলেন, ‘একটি স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জিয়া পরিবারের নামে কটূক্তি করছে এবং মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছে। আমরা অনতিবিলম্বে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মামলা করেছি। আদালত পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।’
একই অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে মাগুরায় আরেকটি মানহানির মামলা করা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব, মাগুরার সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম। বাদী শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত কোকো একজন ক্রীড়াপ্রেমী ও সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে এ ধরনের মন্তব্য শুধু পরিবার নয়, তার অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীদেরও গভীরভাবে আহত করেছে। তাই ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছি। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী আ ন ম সিরাজ উদ্দিন জানান, আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন।
অভিযুক্ত আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ডাবিরাভিটা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। এ নিয়ে একই অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হলো। এর আগে খুলনা ও কুষ্টিয়া আদালতে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে। গত সোমবার সকালে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সোনাডাঙ্গা আমলি আদালতে মামলাটি করেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম। গত রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে মানহানির মামলা করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান চৌধুরী।
