আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে কুষ্টিয়া আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া কোর্টে মামলাটি করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান চৌধুরী শিহাব। মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একাধিক ভিডিওতে আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম ব্যঙ্গাত্মকভাবে বিকৃত করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে বিদ্রূপমূলক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা স্পষ্টতই মানহানিকর।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব বক্তব্য মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে তাঁদের পরিবারবর্গ, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশের জাতীয়তাবাদী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক অপমান ও মানসিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। বাদীর দাবি, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হল এলাকায় অবস্থানকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ভিডিও দেখেন ও শোনেন। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে ও বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব থেকে এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।মামলার আবেদনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৫০০/৫০১/৫০৬ অনুযায়ী অভিযোগ আমলে গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে সমন অথবা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য আদালতের কাছে প্রার্থনা জানানো হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায় মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশ অপেক্ষমান রয়েছে। যে কোন সময় মামলাটি গ্রহন অথবা খারিজ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে বাদী সোলায়মান চৌধুরী শিহাব বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা নয়। একজন মরহুম ব্যক্তি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সামাজিক শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার স্বার্থে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আইনজীবী আবদুল মজিদ বলেন, ‘দুপুরে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়। মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। শুনানি হয়েছে। আদালতের পেশকারের মাধ্যমে পরে জেনেছি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি শুনানির আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।’ বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাবেন। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা বলেন, ‘মামলার আবেদনের বিষয়টি জেনেছি। আমি বিকেলে আদালতেই ছিলাম। যতটুকু জানি, এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। মানহানি হলে ওই পরিবারের কেউ মামলা করতে পারেন। তারেক রহমান সাহেব বা তাঁর স্ত্রী বা তাঁর মরহুম ভাইয়ের স্ত্রী মামলা করতে পারেন। তাঁরা তো করেননি। তারপরও আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবেই সবকিছু দেখা হবে।