আমরা চাঁদাবাজি ও দখলদার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডা. শফিকুর রহমান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আমরা চাঁদাবাজি ও দখলদার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই: ডা. শফিকুর রহমান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৫, ২০২৫

নিজ সংবাদ ॥ গতকাল শনিবার (৪ জানুয়ারী) সকালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে কর্মি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত কর্মি সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসাবে সভায় তিনি প্রায় ৩০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লব, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সহ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সেই সাথে দেশের বিদ্যামান শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি দিক নির্দশনা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। যেখানে তিনি নারী শিক্ষা, নারীদের মর্যাদা এবং যুব সমাজকে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী চিন্তা চেতনা তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আমাদের প্রীয় সকলের জন্মভূমি। এদেশের মাটির গর্ভে অফুরন্ত খনিজ সম্পদ। এদেশের পনিতে আল্লাহ তা’অলা অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন।

যদিও আমরা এদেশবাসী পানির উপরে অনেক জুলুম করেছি। সেই জুলুম কিভাবে করেছি পরবর্তী পর্যায়ে বলার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এদেশের বাতাস আমাদের অনুকুল। না অতি গরম, না অতি ঠান্ডা। এমন দেশে বিশে^ পাওয়া খুবই কঠিন। আল্লাহ তা’অলা সকল নিয়ামতের দিক থেকে আমাদের সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি ছোট্ট দেশে বিপুল জনসংখ্যা আমাদেরকে দান করেছেন। জনসংখ্যা সত্যিকার অর্থে জনশক্তি, জনসম্পদ। যখন এই জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা হয়। আর যখন এই জনসংখাকে শিক্ষা ও প্রকৃত প্রশিক্ষন দেওয়া না হয়, তখন এই জনসংখ্যা একটা দেশের আপদে পরিণত হয়। তখন এটা আর সম্পদ থাকে না। আমরা আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করতে চাই। এদেশ আমাদের সকল ধর্মের, সকল বর্ণের মানুষের। আমরা যুগ যুগ ধরে এই দেশে শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছি। আমরা দুই দুইবার এর পূর্বে স্বাধীন হয়েছিলাম। ১৯৪৭ এবং ১৯৭১ সালে। যারা এই স্বাধীনতা লগ্নে জাতিকে ওয়াদা করেছিলেন যে সমস্ত অধীকার ফিরিয়ে দেওয়ার।

তারা কেউ অধীকার ফিরিয়ে দেননি। তারা কথা রাখেননি। তারা দফায় দফায় জাতির সাথে বেঈমানী করেছে। জাতির প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ডা. শফিকুর রহমান বিগত সরকারের দূর্ণীতির বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, বিশেষ করে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত, গতবছরের ৫ই আগস্ট পর্যন্ত যারা এই দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে নিজেদের মনে করতেন। তারা চেতনার কথা বলতেন। চেতনার কথা বলে বলে এই জাতিকে তারা লুণ্ঠন করেছেন। গণহত্যা চালিয়েছেন। তাদের সন্তানেরা আকাম কুকাম করে ধর্ষণের সেঞ্চুরী পালন করেছে। দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। শুধু তাদের আমলের গত সাড়ে ১৫ বছরে যার হিসাব বের হয়ে এসেছি ২৬ লক্ষ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৫ গুণ। দেশের সম্পদ শুধু বিদেশে যা পাচার করেছে। এই টাকা এরা পেলো কোথায়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পিওনের একাউন্টে ছিলো সাড়ে ৪’শ কোটি টাকা। পিওনের যদি এত টাকা হয় মালিকের কত টাকা ? মালিকের টাকাও বের হয়ে আসতেছে।

আপনাদের একেবারেই নিকটে রুপপুর পারমানবিক কেন্দ্র। এখানে থেকে মালিকের পরিবার শুধু একটা প্রকল্প থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে। যেখানেই মেগা উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে সেখানেই মেগা ডাকাতি করা হয়েছে। একটা পদ্মা ব্রিজ তৈরি করতে যে পরিমান টাকা খরচ হয়েছে, তাই দিয়ে কমপক্ষে ৪টা পদ্মা ব্রিজ তৈরি করা যেত। তাহলে বাকি তিনটা গেলো কোথায়। হিসাব একবারেই পরিস্কার। দেশের টাকা দিয়ে যারা বিদেশে বেগমপাড়া গঠন করেছে তারাই এই টাকা চুরি করেছে। কিন্তুু চোরের মার বড় গলা। কুষ্টিয়ায় অবশ্য এটা বলে না। কুষ্টিয়ায় কি বলে যে চোরের মার বড় গলা ? কুষ্টিয়ায় কি মাঝে মধ্যে গুরু চুরি হয় ? সারা বাংলাদেশে হয়। আমাদের ওদিকেও হয়েছে। এমনকি অনেক জায়গাতে তো গণপিটুনিতে জীবনও যায়। তখন তুমি যেমন কোন কমতি করতে না, এখন পুরো হিসাব করে দিয়ে যাও যেটা তারা চাই। এরেই বলে চোরের মার বড় গলা। প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গরীব এক গার্হস্থ্যের একবার দুইটি বলদ চুরি হয়েছে, তিন খবর পেয়েছেন অন্য গ্রামের চোরেরা তার বলদ চুরি করে নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে তিনি দেখে আসলেন ওখানে তার দুটি বলদ একজন চোরের হেফাজতে আছে।

গরীব মানুষ এই দুইটা বলদই তার জীবণের সম্বল। এই দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে যা পান তা দিয়ে তার পরিবারের খোরাক জুগে। তিনি কিছু টাকা যোগাড় করলেন, বুঝলেন যে এমনি এমনি ছেড়ে দিবে না। চোরের বাড়ীর এলাকায় গিয়ে শুনলেন চোরের বৃদ্ধ মা জীবিত আছে। ঐ বাড়ীতে গিয়ে নিজের পরিচয় না দিয়ে বললেন যে আপনার একজন সন্তান। আপনি আমাকে সাহায্য করেন। তখন চোরের মা জিজ্ঞেস করলেন তুমি কিভাবে আমার সন্তান হলে। বললেন আমি অপনার সন্তানের মতই একজন। আপনার সন্তানেরা আমার দুটি বলদ নিয়ে এসেছে। আমি কষ্ট করে কিছু টাকা পয়সা হাতে করে নিয়ে এসেছি। আমি জানিনা উনারা কত চাহিদা জানাবেন। ঐ চাহিদা অনুযায়ী আমার দেওয়ার কোন সুযোগ নাই, সম্বল নাই। আমি ধার দেনা করে কিছু টাকা এনেছি, আপনি যদি মা হিসাবে আমাকে সাহায্য করতেন। ঐ মহিলা বলতেছে বাবা এখন তো মা বলতেছে। আমার সন্তানরা যদি গরুর রশি সহ ঐখানে ধরা খাইতো দুই চারটা কি কম দিতা। তখন তো পিঠের উপরে সবগুলো একসাথে বসায়ে দিতা।

বিভিন্ন প্রকল্পে বিগত সরকারের দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এরা বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কন্ট্রাকটর নিয়োগ করেছেন নিজের দলের লোকদের। দিয়ে বলেছে ব্যাটা তুমি যদি আমার দলের না হতা এটা পেতা না। যেহেতু তুমি পেয়েছ, এতটুকু আমার আর এতটুকু তোমার। এরপরে যা করো কাজ করো। প্রত্যেকটা প্রকল্পে এই কাজ করেছে। আমি আর মামু মিলে কারবার চালাইছ, এর বাইরে যায়নি। এইভাবে তারা দেশটাকে ফোকলা করেছে। ব্যাংক গুলোকে শেষ করে দিয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক ছিলো, এদেশের আপামর জনসাধারণের ব্যাংক ছিলো, জাতির ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে ব্যাংক ছিলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ডাকাত এস আলমকে লেলিয়ে দিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে সেই ব্যাংকটাকে শেষ করে দিয়েছে। আমরা শুনেছি এই ব্যাংকের টাকা চুরি করেছে শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা। একই পরিবার। এখন তারা এই চুরির দায়ে লন্ডনেও ধরা খেয়েছে। শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে সেখানে সংসদ সদস্য এবং ভাগ্যক্রমে তিনি সেখানে হয়েছিলেন মন্ত্রী।

এখন দূর্ণীতির দায়ে সেখানে দূর্ণীতি দমন কমিশন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এটা বাংলাদেশ এবং জাতির জন্য লজ্জার। আমাদের লজ্জা হলে কি হবে, ওদের কোন লজ্জা নেই। ওদের কাছে সম্পদ এবং টাকায় বড় কথা। অথচ তারা বলতেন মা হারিয়েছি, বাপ হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি, সব হারিয়েছি, এদশে আমার পাওয়ার কিছু নাই, আমার কলিজা, আমার হৃদয় বাংলাদেশের জন্য। কথা খুবই সুন্দর। কিন্তু তিনি ছাড়া তার পরিবারের জীবিত কোন সদস্য বাংলাদেশে থাকতেন না। তিনি ছাড়া তার পরিবারের কোন সদস্য, তার ছেলে, তার বোনের মেয়ে এবং বোনের ছেলে, তাদের জন্য বাংলাদেশের কোন ছেলে বা মেয়ে তাদের পছন্দ হয় নাই। দুই জন বিয়ে করেছে দুইজন খৃস্টান মেয়ে এবং একজন বিয়ে করেছে ইহুদি ছেলেকে। কোন অসুবিধা নাই তারাও মানুষ। বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, দুই একটা মেয়ে ছেলেকে এখানে ভালোবাসতে পারলেন না। এই তাদের ভালোবাসার নমুনা। বাংলাদেশ ছিলো তাদের ইনকাম সোর্সের জায়গা। আর তাদের কলিজা ছিলো বিশে^র অন্য জায়গায়।

এই দেশের প্রতি তাদের দূঃখ-দরদ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। শেখ পরিবারের আরো অনেক এমপি মন্ত্রী ছিলো, খোঁজ নিয়ে দেখেন, সব গুলার ছেলে মেয়ে এখন বিদেশে। পরিবার বিদেশে। কোথায়? বেগম পাড়ায়। তারা এই দেশকে যদি ভালোবাসতো তাহলে এই দেশেই তারা থাকতো, এই দেশের উন্নয়নে তারা অবদান রাখতো। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে সম্পর্কে ডা. শফিকুর রহমান  বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাকে শেষ করে দিয়েছে। শেষ করবে না কেন ? তাদের কোন সন্তানরা এদেশে লেখাপড়া করে না। কাজেই এই দেশের শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের দরদ থাকার কোন প্রশ্নই উঠে না। তিলে তিলে এই দেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করে জাতির মেরুদন্ডটা ধ্বংস করে ফেলেছে। এ দেশের গরিবের সন্তানেরা যতটুকু পারে নিজের মেধা দিয়ে সংগ্রাম করে একটু ভালো রেজাল্ট করে। কিন্তু রেজাল্ট করার পরে তার কাঙ্খিত চাকরী জুটে না। ছেলেও জুটে না, মেয়েরও জুটে না। কোটা জালে বন্দি। দুনিয়ার কোন দেশে এই নিয়ম নাই। শতকরা ৫৬ জন চলে যাবে কোটায়, ৪৪ জন যাবে মেধায়। সেই মেধায় হিসাব করা হবে কোনটা কোনটা আমাদের দলের। যে আওয়ামী লীগ করবে না, নিঃশর্ত আনুগত্য স্বীকার করবে না তাদের কোন চাকরীর জায়গা বাংলাদেশে নাই। এই বৈষম্যের বিরুদ্ধেই আমাদের সন্তনরা রাস্তায় নেমেছিলো।

তারা বলেছিলো কোটার সংস্কার করবো, বিলুপ্তি নয়। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে আমরা সন্মান দেখাতে চাই। আরো কিছু পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীকেও আমরা সন্মান দেখাতে চাই। কিন্তু সেটা হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা অন্যায় কিছু মেনে নেবো না। ১৮ সালের আন্দোলনের পরে বললেন যা আর কোন কোটাই রাখবো না। আবার কায়দা করে আদালতের মাধ্যমে পুরা কোটা আগের মত ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন। ছাত্র সমাজ বুঝলো যে তাদের সাথে এটা ধোকাবাজি করা হয়েছে। তাই এবার তারা আন্দোলনে নেমেছিলো। বিগত সরকারের জুলুম ও অত্যাচারের বর্ণনা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাদের ধারণা ছিলো জামায়েত ইসলামির ক্ষতি করেছে, এদেশের সেনাবাহিনীর ক্ষতি করেছে, এদশে হেফাজতে ইসলামের অসংখ্য মানুষকে খুন করেছে, সবগুলো হজম করেছে ফেলেছে। এবার ছাত্রদেরকে হজম করতে পারবে। এজন্য মুগুর বাহিনী তাদের হুলিয়া বাহিনী দিয়ে আন্দোলন দমানোর জন্য পাঠিয়েছিলো। ক্ষতার শেষ দিন পর্যন্ত জিজ্ঞেস করেছিলো এই আন্দোলন কিভাবে দমন করতে হবে। বাহিনী প্রধানগণ জবাব দিয়েছিলেন কয়েক লক্ষ মানুষকে খুন না করলে এই আন্দোলনকে দমন করা যাবে না। বলেছিলো কয়েক লক্ষ নয় কোটিও যদি খুন করতে হয় তাও তোমরা এই আন্দোলন দমন করো। তারা তখন বলেছিলেন স্যার মাফ করবেন। বাংলাদেশ এখন আর এই জায়গায় নাই। এখন এই ৫-৭ লক্ষ সেনাবাহিনী আর পুলিশ বাংলাদেশকে কোন হেল্প করতে পারবে না। এখন বাংলাদেশের দশ কোটি যোদ্ধা রাস্তায় নেমে এসেছে।

একজন মা তার দশ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে রাস্তায় এসেছিলেন। সাংবাদিক বন্ধুরা প্রশ্ন করেছিলো আপনি এই সাংঘাতিক কাজ করতে গেলেন কেনো? অবুঝ দুধের এই শিশুকে নিয়ে কেন রাস্তায় এসেছেন ? মুর্হুমুহু গুলি, লাশের পর লাশ, আপনি কেন এখানে অবুঝ শিশু নিয়ে এসেছেন? তিনি বলেছিলেন, শিশু আমার একটা নয়। যতগুলা যুবক যুবতী আজকে রাস্তায় নেমেছে সবগুলা আমার সন্তান। ঐ সন্তানদের জীবনের প্রতি সন্মান রেখে আমি আমার এই সন্তান নিয়ে এখানে এসেছি। সাংবাদিকরা আবার প্রশ্ন করেছেন, গুলি এসে যদি আপনার এবং আপনার সন্তানের জীবণ প্রদীপ নিভিয়ে দেয় তখন কি হবে? তিনি তখন বলেছিলেন, আমি আর আমার সন্তান মহীদের মিছিলে শহীদ হয়ে যাবো। সাত বছরের একটা শিশু সে হাতে ইটের টুকরো নিয়ে পুলিশকে তেড়ে যাচ্ছে। যুবকেরা তারে ধরে এনে বলেছে এই তুমি এটা কি করছো ? উত্তরে ঐ শিশু বলেছিলো আমাকে আমার কাজ করতে দিন। তুমি কি কাজে এখানে এসেছো ? আমি আন্দোলন করতে এসেছি।

কেন তুমি এই ছোট্ট শিশু আন্দোলন করবে? বলে যে পুলিশ আমার ভাইকে খুন করেছে। তোমার ভাই কে ? শহীদ আবু সাঈদ আমার ভাই। তোমার বাড়ী কি রংপুর পীরগঞ্জ ? আমার বাড়ী ঢাকায়। তাহলে ও তোমার ভাই হয় কেমনে? ও আমার ভাই হবে না তো কে হবে। যে মানুষের মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে জীবন দিয়েছে সেই আমার ভাই। তুমি যাও আন্দোলন আমরা করবো? ঝাড়ি মেরে বলে ছাড়েন মিয়া, আপনি সরেন আমি আমার আন্দোলন করবো। এটাই বাংলাদেশ। কেন দশ মাসের শিশু এই আন্দোলনে শরীক হলো, কেন ৭ বছরের শিশু আন্দোলনে শরীক হয়ে গেলো? এই মা কেন আসলেন ? এর কারণ ছিলো যে এরা শুধু বিরোধী দলের উপর, আলেম উপর নির্যাতন করে নাই, এরা প্রতিটি মানুষের উপর নির্যাতন করেছে। ১৮ কোটি মানুষকে বেউজ্জত করেছে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান  বলেন, সিন্ডিকেট করে বাজারে অগ্নীমূল্য তারা চালু করে দিয়েছিলো। যেই সিন্ডিকেট এই সরকার এসে এখনও ভাঙতে পারে নাই। আমরা জিজ্ঞেস করি যে আপনারা ভাঙতে পারেন না কেন ? বলে আপনাদের দোষ। আমাদের কি দোষ ? বলে সিন্ডকেটের হাত বদল হয়ে গেছে। আগে তাদের কাছে ছিলো, এখন আরেক দল এটা তাদের হাতে তুলে নিয়েছে। আমরা সরকারকে বলেছি, এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আপনাদেরকে যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। এই সিন্ডিকেটের হাত আপনাদেরকে ভেঙে দিতে হবে।

১৮ কোটি মানুষের উপর আর অর্থনৈতিক শোষন চালানো যাবে না। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আপনারা নামুন, আপনাদের সাথে ১৮ কোটি মানুষ নামবে ইন্শাআল্লাহ। কুষ্টিয়ায় বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই চাঁদাবাজি ছিলো ৫ আগস্টের আগে, কুষ্টিয়াতে এখন আর কোন চাঁদাবাজি নাই। কুষ্টিয়া এখন চাঁদাবাজ মুক্ত ঠিক আছে না? এখনো চাঁদাবাজি চলে ? তাহলে এতগুলো মানুষের জীবণের প্রতি আমরা কি সন্মান দেখালাম। আপনারা কি আবার চাঁদাবাজি এই দেশে চলতে দিতে পারেন? আপনারা চাঁদাবাজি সমর্থন করেন? আগে দখলদারি ছিলো। ফুটপাত থেকে শুরু করে সবকিছু দখলে চলে গিয়েছিলো। এখন তো আর দখলদার নাই? এখনো আছে? আমরা চাঁদাবাজি ও দখলদার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। চলমান অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেন দ্রব্যের এত মূল্য? আমার কৃষক তো এত দাম পাইনা। অনেক জায়গায় কৃষক তার পণ্যের উৎপাদন খরচটা পর্যন্ত পায় না। তার কারণ হলো ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। আমাদের কর্মিরা চাঁদাবজিও করে না, দখলবাজিও করে না।

নিজ দলীয় নেতাদের সাথে ঘটে যাওয়া জুলুমের বিবরণ দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সেই দল যাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে খুন করা হয়েছে, বিচারের নামে প্রহসন করে। কাউকে দেওয়া হয়েছে ফাঁসি, আর কাউকে জেলের ভিতরে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন, কুরআনের পাখি আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর সহকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সাজানো আদালতে পাতানো স্বাক্ষী দিয়ে। এখন মামলার বাদীরা এবং স্বাক্ষীরা বলছে যে যারা আমাদের জোর করে সেদিন এই মামলা দায়ের করেছিলো এবং স্বাক্ষী দিয়েছিলো তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করবো। এটিই আল্লাহর খেলা। আল্লাহ ইজ্জত দেওয়ার মালিক, আবার ইজ্জত কেড়ে নেওয়ার মালিক। আল্লাহ বাংলাদেশে আরও অনেক কিছু দেখাবেন, ইন্শাআল্লাহ। বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যা নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান  বলেন, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ভাগবাটোয়ারা করে ঘুষ বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্যের জন্য আমাদের এতগুলো সন্তান জীবণ দেই নাই । এর জন্য আমাদের সন্তানেরা জীবণ দেই নাই। ৩৪ হাজারের উপরে আমাদের সন্তানেরা জীবণের তরে পঙ্গু হয়ে গেছে। ৫ শতাধিক সন্তান দুই চোখ হারিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে। এ বিশে^র সৌন্দয্য আর কখনো তারা দেখবে না। মায়ের মুখটাও তারা দেখতে পাবে না। স্ত্রীর মুখ দেখতে পারবে না, সন্তানের মুখ দেখতে পারবে না। তাদের চোখের আলো নিভে গেছে। সাড়ে ৭’শ এর মত এক চোখ হানি, আরেক চোখ ঝুঁকিতে আছে। কয়েক’শ সন্তান আমাদের প্যারালাইজ্ড হয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছে। যাদেরকে মেরুদন্ডে গুলি করা হয়েছিলো। কয়েক হাজার হয় হাত হারিয়েছে, না হয় পা হারিয়েছে। এতগুলো মানুষের জীবণের প্রতি, রক্তের প্রতি গাদ্দারি করা চলবে না। এ রক্তের আমানত রক্ষা করতে হবে, সন্মান দেখাতে হবে। আমাদের সন্তানদের স্লোগান ছিলো মাত্র একটা “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”।

আমরা সর্বক্ষেত্রে ন্যায় বিচার চাই, আমরা বৈষম্য চাই না। আমরা আমাদের গর্বের সন্তানদেরকে কথা দিচ্ছি “ তোমরা যেমন জীবণ দিয়ে জাতিকে আর একবার স্বাধীনতা এনে দিয়েছ, আমরা প্রয়োজনে জীবণ দিয়ে তোমাদের দাবি পূরণ করবো, ইন্শাআল্লাহ। আল্লাহ যেন এই তৌফিক আমাদেরকে দান করে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটি সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আর কোন মাইনোরেটি, মেজোরিটি এই কথা এই দেশে শুনতে চাই না। কিসের মেজোরিটি আর মাইনোরেটি। বাংলাদেশে যারাই জন্মগ্রহন করবে তারা সকলেই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের গর্বিত মর্যাদাবান নাগরিক। রাষ্ট্রের সংবিধান সকলে সমান অধীকার দিয়েছে। আল্লাহর সংবিধান তাদেরকে সমান অধীকার দিয়েছে। অধুনিক রাষ্ট্রের প্রথম সংবিধান হচ্ছে মদিনার সনদ। এই মদিনার সনদে ১ থেকে ৫ নম্বর ধারা পর্যন্ত প্রত্যেকটি হচ্ছে সকল ধর্মের মানুষের অধীকার সংরক্ষনের সনদ। সেখানে পরিস্কার বলা হয়েছে “ধর্মের ভিত্তিতে কোন নাগরিকের অধীকার বিভক্তি করা যাবে না”। এই রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জীবণ, সম্পদ এবং ইজ্জত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এই রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করবেন অত্যন্ত নির্বিঘে নিরাপত্তার সাথে। কেউ করো উপর হাত দিতে পারবে না, দূঃসাহস দেখাতে পারবে না। এই দেশে সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম পালনে কোন বাঁধার সন্মুখী হবে না।

ইসলামের ধর্ম কারো উপর জোর করে চালানো যাবে না। পরিস্কারভাবে সনদে এই গুলো বর্ণিত আছে। সনদে বলা হয়েছে তাদেরকে নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে দিতে হবে। যদি তাদের কাউকে বাহিরের কেউ আক্রমণ করে, মুসলমানদের দায়িত্ব হবে তাদের পক্ষ নিয়ে লড়াই করা। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই। আমরা সকল ধর্মের ভাইদেরকে বলি যারা ধর্মের বিভাজন তৈরি কের তারাই ৫৩ বছর আপনাদেরকে বড় কষ্ট দিয়েছে। আপনারা চিন্তা করে দেখেন। আমাদের দলের কেউ এই অপকর্মে জড়িত নাই। অথচ দোষ দেয় আমাদের ঘাড়ে। কোথাও কিছু হলে যত দোষ নন্দ ঘোষ। সব করেছে জামায়েত ইসলামী। কিন্তু একটাও প্রমাণ করতে পারে না। তারা নারী পুরুষের ব্যবধান এনে আমাদেরকে বলে, জামায়েত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এই দেশে মহিলারা বিপদে পড়বে। কেন মহিলারা বিপদে পড়বে ? মহিলারা তো মায়ের জাতি। আমরাতো তাদেরকে মায়ের মত সন্মান করি। এর প্রমাণ আমাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ। তারা লেখাপড়া করে, তারা পেশাগত দাযিত্ব পালন করে, তারা সামাজিক দাযিত্ব পালন করে, তারা রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে। আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ আমি তার প্রমাণ। আমার স্ত্রী একজন সংসদ সদস্য ছিলেন, তিনি একজন চিকিৎসক, তিনি রোগের সেবা করেছেন। এখন যদিও তিনি পারেন না। দুটি মেয়ে তারাও চিকিৎসক। তারাও মানুষকে সেবা দেয়। একটি ছেলে সেও চিকিৎসক। সেও মানুষকে সেবা দেয়। আমি শুধু আমার ছেলেটাকে চিকিৎসক হওয়ার জন্য চেষ্টা করি নাই, মেয়েদেরকেও করেছি। আমাদের বিরুদ্ধে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বলে হ্যাঁ, কর্মক্ষেত্রে হয়তো দিবে, সবাইকে কালো বোরখা পরিয়ে দিবে। বোরখা কালো হবে না লাল হবে, সাদা হবে না বেগুনী হবে এটা আমার দায়িত্ব না। বোরখা কাউকে জোর করে পরানো হবে না। যে মা মনের সন্তুষ্টির সাথে বোরখা পরতে চাইবে, পরদা করতে চাইবে, তিনি করবেন। অনান্য ধর্মাবলম্বী মা’দেরকে আমি কিভাবে বোরখা পরাবো। ইসলাম কি আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে, না অধীকার দিয়েছে।

কোনটাই না। তারা যা পছন্দ করে, তারা সেই রকম চলবেন। মুসলমানদের উপরেও জোর খাটানো হবে না। বরং শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে মানুষ বাধ্য হয় সব কয়টি মহিলাকে তার নিজের মায়ের দৃষ্টিতে দেখতে। তখন মহিলারা ওরকম পোষাক পরে গর্ব করবে। যে এই পোষাক ইজ্জতের প্রতীক, আমার সন্মান এবং মর্যাদার প্রতীক। মহিলা এবং নারীদের প্রয়োজন আছে পেশাক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা। তারা তাদের যোগ্যতা এবং দক্ষতা অনুযায়ী করবেন। তারা দুইটা বাড়তি জিনিস পাবেন, একটা হচ্ছে সন্মান, আর একটা হচ্ছে নিরাপত্তা। এখন দুইটার কোনটাই নাই। প্রতিদিন তাদের নিগ্রহের খবর পত্রপত্রিকায় এবং মিডিয়ায় উঠে আসছে। আল্লাহর রাসুল বলেছিলেন এমন একটি রাষ্ট্র দুনিয়ায় কুরআনের ভিত্তিতে দিয়ে যাচ্ছি, একজন পূর্ণ যৌবনা তরুনী একা রাস্তা দিয়ে চলবেন কিন্তু কোন জালিমের পক্ষে সম্ভব হবে না তার দিকে কু-দৃষ্টিতে তাকানো। তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন। সেই রাষ্ট্রে চলবে আল্লাহর আইন। আল্লাহর আইন সমস্ত মানুষের জন্য, শুধু মুসলমানদের জন্য না। আমরা সেই আইনের জন্য লড়াই করছি। এখন কেউ আমাদেরকে যা বলতে চাই বলুক। এই জায়গায় আমরা আপোষহীন, কোন আপোষ নাই। কুষ্টিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে এই দেশকে অন্তরে ধারণ করি। এদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে সন্মান করি এবং ভালোবাসি। আমি মানুষকে মানুষ হিসাবে দেখবো। আমি মানুষকে দেখবো না তিনি মুসলমান, না হিন্দু। আমি মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেবো। যদি প্রত্যেকটা মানুষ এভাবে মানুষকে সন্মান দেয় এবং ভালোবাসে এই দেশ জান্নাতের টুকরাই পরিণত হবে, ইন্শাআল্লাহ। বিশে^র বুকে ঈর্ষনীয় দেশ হয়ে দাঁড়াবে। বক্তব্যের শেষে তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ছাত্রসমাজকে কথা দিচ্ছি “এমন শিক্ষা ইন্শাআল্লাহ তোমাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যে তোমরা একটা বেহুদা কাগজের টুকরা সার্টিফিকেট নিয়ে এই দুয়ারে, ঐ দুয়ারে আর দৌড়াদৌড়ি করা তোমাদের লাগবে না। তোমাদের শিক্ষার পাঠ চুকিয়ে আসার সাথে সাথে কাগজের টুকরা আর তোমাদের নায্য পাওনা চাকরী বা কাজ তোমাদের হাতে উঠে যাবে, ইন্শাআল্লাহ। প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসাবে তৈরি করতে চাই।

এরকম একটা জাতি যখন তৈরি হবে, ইন্শাআল্লাহ, এই দেশের মানুষ আর বিশে^ চাকরীর জন্য যাবে না। যেভাবে ১৭৫৭ সালের আগের বিশে^র মানুষ এই দেশে আসতো রুজি রোজগার, চাকরীর করার জন্য। এই দেশ আবার তার সেই গৌরব ফিরে পাবে, ইন্শাআল্লাহ। আমরা সেই গৌরবটা ফিরিয়ে আনতে চাই। কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ারদার এবং পৌর আমীর মো. এনামুল হকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন, ড. আলমগীর বিশ্বাস, মাওলানা আবদুল মতিন, ঝিনাইদহ জেলা আমীর আলী আজম মোহাম্মদ আবু বক্কর, পাবনা জেলা আমীর আবু তালেব মন্ডল, মেহেরপুর জেলা আমীর, তাজউদ্দিন খান, মাগুরা জেলা আমীর এবিএম বাকের, চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এডভোকেট রুহুল আমীন, রাজবাড়ী জেলা আমীর এডভোকেট নুরুল ইসলাম, জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ইমরান হোসাইন ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী রবীন্দ্র নাথ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা নায়েবে আমীর আব্দুল গফুর, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. সোহরাব উদ্দিন, মো. খায়রুল ইসলাম রবিন, অধ্যাপক মাজহারুল হক মোমিন, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসাইন, ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আবু মুসা, কুষ্টিয়া শহর সভাপতি হাফেজ সেলিম রেজা, মিরপুর উপজেলা আমীর মাওলানা খন্দকার রেজাউল করিম, দৌলতপুর উপজেলা আমীর মাওলানা বেলাল উদ্দিন, কুমারখালী উপজেলা আমীর আফতাব উদ্দিন, ভেড়ামারা উপজেলা আমীর মো. জালাল উদ্দিন, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা শরিফুল ইসলাম, খোকসা উপজেলা আমীর মো. নজরুল ইসলাম, ইবি থানা আমীর মো. রফিকুল ইসলাম, পেশাজীবী থানা সভাপতি মাহবুবুর রহমার হামীম, শ্রমিক কল্যাণ সভাপতি এস এম মুহসিন প্রমূখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “আওয়ামী লীগের পলায়নের পর একজন বিচারপতিকে সিলেটের জঙ্গলে পাওয়া গেছে।

তিনি ফাঁসির আদেশ দিয়ে টকশো’তে আস্ফালন করে বলতেন ওমুককে ফাঁসি দিয়েছি। তারা তখন বিচারের নামে তামাশা করেছে। তারা অপরাধ করেছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। তিনি শেখ হাসিনার পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ভাত রান্না করে খেতে পারেননি। না খেয়েই পালিয়েছেন। এখনো মানুষের জান-মালের ইজ্জতের নিরাপত্তার বিধান হয়নি। শেখ হাসিনা মামুবাড়ি পালিয়েছে তিনি আর ফিরবেন না। দেশের মানুষ আর তাকে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে দেবে না। দেশের মানুষ এবার জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। দেশে ইসলামের জোয়ার শুরু হয়েছে। সব দল দেখা শেষ, এবার জামায়াতে ইসলামীর বাংলাদেশ। এই স্লোগান উঠেছে সারাদেশে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন, “জামায়াত প্রতি জেলায় কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণকে আশ^স্ত করতে চায় যে, গত ৫৩ বছরে যেভাবে মানুষ বঞ্চিত হয়েছে, শোষিত হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে; ইসলামের ছায়াতলে এলে তা হবে না।

জামায়াতের নেতৃত্বে একটি কল্যাণময় রাষ্ট্র গড়া হবে। কোরআনের রাজ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো.শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমরা ১৬ বছর রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। আমাদের স্থান ছিল জেলখানা আর জঙ্গলে। আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। জনগণ ভোট চোর সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। অধ্যক্ষ খন্দকার আলী মুহসিন বলেন, “ফ্যাসিস্ট চোর সরকার কখনো মানুষের কল্যাণ ও সফলতা দিতে পারে না। তারা সর্বত্র চুরি করে দেশকে ধ্বংস করেছে। আগামিতে জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “কুরআনের আাইন চালু হলে সব শ্রেণি পেশার মানুষ সুখ-শান্তি ও কল্যাণ লাভ করবে। জামায়াতে ইসলামী ভারতের গোলামি করতে চায় না। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাসেম বলেন, “কুষ্টিয়ার জনগণ বৈষম্যহীন দেশ গঠনের সঙ্গে আছে। কুরআনের বাংলাদেশ দেখতে হলে কুষ্টিয়ার ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে শীত উপেক্ষা করে সমাবেশ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানান।