নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১১, ২০২৩
নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর) মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল) ও কারিগরি দীর্ঘদিন যাবত এক শ্রেণির শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা করে আসছেন। এটি বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কোচিং বাণিজ্যের সাথে যুক্ত শিক্ষকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন । যা পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং এ ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকগণ হিমশিম খাচ্ছেন।

নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

নিয়ম ভেঙ্গে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিমের রমরমা কোচিং বাণিজ্য

এছাড়া অনেক শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিং এ বেশি সময় ব্যয় করছেন। এক্ষেত্রে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এবং অভিভাবকগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ সম্পর্কিত মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং-৭৩৬৬/২০১১ এর আদেশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি গেজেট নোটিফিকেশন বা অন্য কোনরূপ আদেশ প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা ২০১২ এর ৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোন শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কোন কোচিং সেন্টারে নিজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত হতে পারবেন না বা নিজে কোচিং সেন্টারের মালিক হতে পারবেন না বা কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে পারবেন না ।

এদিকে কুষ্টিয়ার সুনামধন্য জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম কুষ্টিয়া কোর্টপাড়াস্থ ১০১ আরসিআরসি স্ট্রিটে হালিম স্যার’স ম্যাথ কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টার গড়ে তুলেছেন এবং নিজেকে সেই কোচিং সেনটারের পরিচালক হিসাব সাইনবোর্ডে উল্লেখ করেছেন ।

স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম দীর্ঘ দিন যাবত কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত এবং তিনি প্রতিমাসে প্রায় দেড় শতাধিক ছাত্রছাত্রীদের তার প্রতিষ্ঠিত কোচিং সেন্টারে নিয়ম বর্হিঃভূত ভাবে পাঠদান করে আসছেন । যা থেকে তিনি প্রতিমাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন । আর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কোচিং বাণিজ্য করে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন আব্দুল হালিম ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম এর কোচিং সেন্টারের পরতে পরতে পাওয়া গেছে অনিয়ম ও দূর্ণীতি চিত্র । পৌরসভার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেও তিনি পৌরসভা নেয়নি কোন ট্রেড লাইসেন্স, কোচিং সেন্টার বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স । যার ফলে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে । বিষয়টি নিয়ে দূর্ণীতি দমন কমিশন সহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা । তারা মনে করেন, প্রতি মাসে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করে টাকার পাহাড় বানালেও এই শিক্ষক সরকারী কোন রাজস্ব না দেওয়ায় দেশ ও জাতির বিরাট ক্ষতি হচ্ছে । আর এই সমস্ত অনিয়মের জন্য দায়ী জেলা শিক্ষা অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক । তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচৎ বলে জানান তারা ।

জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম সম্পর্কে স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি পাবনা’য় বিএড কোর্স করার জন্য স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছেন এবং তার অবৈধ কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে জানেন না জিলা স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম ।
অবস্থা বেগতিক দেখে জিলা স্কুলের শিক্ষক আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন এবং ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে ১০ জুলাই গভীর রাতে কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড খুলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন ।

শিক্ষক আব্দুল হালিম অবৈধ কোচিং বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে জিলা স্কুলের প্রধাণ শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম, কোন শিক্ষক চাইলেই কোচিং বাণিজ্য করতে পারেন না । আর উনি এখন বিএড কোর্স করার জন্য ছুটিতে আছে । আমি বিষয়টি দেখতেছি ।

এই বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা অফিসার আখতার হোসেন বলেন, কোন শিক্ষক নিজ বিদ্যালয়ের দুর্বল ছাত্রদের অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে নিজ বিদ্যালয়ে পড়াতে পারবেন । বাসায় ইচ্ছা করলে অন্য বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের পড়াতে পাববেন, তবে দিনে দশ জনের বেশী নয় । বাণিজ্যিক ভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই । বিষয়টি আমি দেখতেছি ।