ইবি প্রতিনিধি ॥ কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের জেরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় একদফা দাবী আদায়ে বিক্ষোভে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সাথে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
গতকাল রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইবি সমন্বয়কদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কয়েকশত শিক্ষার্থী। মিছিলটি ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করার সময় এতে যোগ দেয় আরো কয়েকশো স্থানীয় এলাকাবাসী। মিছিলটি কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে মেইন গেইটে সমবেত হয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলে শিক্ষার্থী ও জনতা ইবিয়ান আসছে, রাজপথ কাঁপছে; স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট একশান; স্বৈরাচারের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে; একদফা একদাবী, স্বৈরাচার কবে যাবি; ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচিনা; ভারত যাদের মামার বাড়ি, বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি; চশমাওয়ালী বুবুজান, চশমা লইয়া ভারত যান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে; হৈ হৈ রৈ রৈ, ছাত্রলীগ গেলি কই ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমার রাষ্ট্রের দাস নই, আমরা রাষ্ট্রের মালিক।
আমরা যে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি না কেন আমাদের এই আন্দোলন একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে আন্দোলন। বছরের পর বছর একটা বাজে সিস্টেম এই দেশে গড়ে উঠেছে। আমরা প্রথমেই ওনার পদত্যাগ চাই নাই, মেধাবীদের যৌক্তিক অধিকার চেয়েছিলাম। তিনি কোটা সংস্কারের নামে আমাদের বুকে গুলি চালালেন। অপর এক বক্তা বলেন, আমরা যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছিলাম তখন তিনি আমাদের উপহাস করলেন। যখন কোটা সংস্কার চাইলাম তখন গুলি চালালেন, যখন ছাত্র হত্যার বিচার চাইলাম তখন কোটা সংস্কার মেনে নিলেন, যখন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের পদত্যাগ চাইলাম তখন তিনি গদি নিয়ে বসেছিলেন।
যখন আমাদের দাবি এক দফায় চলে আসলো তখন তিনি মন্ত্রীদের পদত্যাগের বিষয়ে চিন্তা করতে লাগলেন। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই মন্ত্রীদের পদত্যাগের সময় এখন আর নাই, এখন সরকারকেই পদত্যাগ করতে হবে।
