রঞ্জুউর রহমান ॥ গতকাল শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ) সকাল দশটা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ শারমিন আখতার এর সভাপতিত্বে “রাষ্ট্রের মূলধারায় তথ্য অধিকারের সংযুক্তি এবং সরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ”এই প্রতিপাদ্যে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিভিল সার্জন কুষ্টিয়া ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মোঃ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম (টুকু), সিনিয়র তথ্য অফিসার কুষ্টিয়া মোঃ আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়া এর উপ-পরিচালক মোঃ হেলালউজজামান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ব্যবসা, বানিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা) আদিত্য পাল, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) মুমতাহিনা পৃথুলা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মোঃ তাফসীরুল হক মুন,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি শাখা) মোঃ জাহিদ হাসান কুষ্টিয়া জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ , ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা তথ্য অধিকার দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ না থাকলে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার আদায় সম্ভব নয়। ব্যক্তির অধিকার আদায়ে তথ্য অধিকার দিবসের গুরুত্ব অনেক।
‘বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে চিন্তা, বিবেক ও বাক-স্বাধীনতা নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ আছে। দেশের জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন, তাদের সামাজিক ক্ষমতায়নের দ্বারা সরকারি-বেসরকারি সবস্তরের প্রতিষ্ঠানের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে অবাধ তথ্যপ্রবাহ সৃষ্টি করা যায়। গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করাও আবশ্যক। তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ দেশের জনগণের দীর্ঘ দিনের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করেছে।২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর ‘তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮’ জারি করা হয়।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার ‘তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ, ২০০৮’-কে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেয় এবং নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যে কয়টি অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হয় তার মধ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ অন্যতম। ওই অধিবেশনে (২৯ মার্চ, ২০০৯) তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পাস হয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ৫ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে এ আইনটিতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং ৬ এপ্রিল, ২০০৯ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে অধিকার সচেতনতা, তার মুক্তচিন্তা, তার ভাবনা তথ্য অধিকার প্রাপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি যার যার অবস্থান থেকে সর্বস্তরের জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ জরুরি।
সঠিক চিন্তা ও চেতনার সম্মিলনে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হোক জনগণের তথ্য প্রাপ্তি সহজতর করা এবং সবক্ষেত্রে সঠিক তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা। নাগরিক সচেতনতা আর সরকারের সদিচ্ছাই পারে তথ্য অধিকারকে সার্বজনীনতা দিতে।
