কুষ্টিয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালে পিত্তথলির অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালে পিত্তথলির অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৩
কুষ্টিয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালে পিত্তথলির অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু

কুষ্টিয়া শহরের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পিত্তথলিতে পাথরের অপারেশনের সময় ফিরোজা খাতুন (৪৫) নামের এক নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আমিরুল ইসলামের সাথে স্বজনদের কথাকাটাকাটি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

কুষ্টিয়া আদ-দ্বীন হাসপাতালে পিত্তথলির অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু

 

ঘটনার সময় ও স্থান

ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১৯ জুন সকাল ১১টার দিকে, কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে।

 

নিহত রোগীর পরিচয়

নিহত ফিরোজা খাতুন কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জিকে স্কুল সংলগ্ন এলাকার মো. আয়য়ুব আলীর স্ত্রী।

অপারেশন মৃত্যুর বিবরণ

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফিরোজা খাতুন পিত্তথলিতে পাথরের অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অপারেশন চলাকালে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁকে শহরের মান্নান হার্ট হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে, বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বজনদের ক্ষোভ উত্তেজনা

রোগীর মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে অপারেশনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মো. আমিরুল ইসলামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। এতে হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

  • স্টাফ নার্স আঁখি আক্তার বলেন,
    “রোগীকে যখন আনা হয়, তখন কোনো শ্বাসকষ্ট বা শারীরিক জটিলতার কথা জানানো হয়নি। অপারেশনের সময় রোগীর স্যাচুরেশন কমে যায় এবং সে শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছিল। সম্ভবত শ্বাসকষ্ট থেকেই মৃত্যু হয়েছে।”
  • শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ লাবণী আক্তার জানান,
    “রোগী হাসপাতালে মারা যাননি। অপারেশনের সময় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকে মান্নান হার্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়, পথে তাঁর মৃত্যু হতে পারে।”

স্বজনদের অভিযোগ

নিহতের ছেলে অভিযোগ করে বলেন,
“আমার মা সুস্থ অবস্থায় অপারেশন রুমে যান। আমি অপারেশনের কিছু জিনিসপত্র কিনে ফিরতেই ডাক্তার বলেন, রোগী অজ্ঞান হয়ে গেছে, অপারেশন করা সম্ভব নয়। এরপরই জানানো হয়, আমার মা মারা গেছেন। এটা আমি মেনে নিতে পারছি না।”

পুলিশ জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য

  • কুষ্টিয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক সাহেব আলী বলেন,
    “ডাক্তার অপারেশনের সময় রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। মারধরের মতো ঘটনা আমরা চোখে দেখিনি, তবে কিছু কথাকাটাকাটি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত।”
  • কুষ্টিয়া পৌরসভার নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাইমুল ইসলাম জানান,
    “রোগীর স্বজন অপারেশনের মালামাল আনতে গেলে সেই সময় রোগীর স্ট্রোক হয়। চিকিৎসক অপারেশন শুরুই করতে পারেননি।”

অপারেশনকারী চিকিৎসকের বক্তব্য

ডা. মো. আমিরুল ইসলাম, যিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক এবং বর্তমানে আদ্-দ্বীনসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখেন, বলেন,
“রোগীকে অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়েছিল। আমরা সবসময় অপারেশনের আগে জানিয়ে দিই—জটিলতা হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। রোগীর বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় এটা একটি দুর্ঘটনা ছিল।”

এই ঘটনা কুষ্টিয়ায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সার্ভিস কোয়ালিটি, রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে স্বচ্ছতা, এবং চিকিৎসা-প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।