আত্মগোপনে থেকেও থামেনি ‘কুদ্দুস বাহিনী’ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আত্মগোপনে থেকেও থামেনি ‘কুদ্দুস বাহিনী’

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৪, ২০২৬

দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির নেটওয়ার্ক পরিচালনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা কুদ্দুসকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত বাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন এবং বর্তমানে আত্মগোপনে থেকেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুদ্দুস হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে নদী দখল, সরকারি জমি দখল করে বিক্রি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিপণন, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ছিনতাই চক্র পরিচালনা এবং ড্রেজার দখলের মতো অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পদ্মা ও গড়াই নদীসংলগ্ন এলাকায় তার একক প্রভাব ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়ার হানিফের ছোট ভাই আতার ভাইরা ভাই পরিচয়ে তিনি ‘কুদ্দুস বাহিনী’ নামে একটি নিজস্ব গ্রুপ গড়ে তোলেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই বাহিনীর মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং আধিপত্য বজায় রাখা হতো। গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনাতেও কুদ্দুস ও তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিন তাকে অবৈধ অস্ত্রসহ মহড়া দিতে এবং হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও ফুটেজ স্থানীয়দের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এরপর ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে তিনি হরিপুরের শাহদাহ এলাকায় গোপনে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছেন। তার পূর্বের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আত্মগোপনে থাকলেও কুদ্দুস মাঝে মাঝে হরিপুর বাজার এলাকায় গোপনে যাতায়াত করেন। তবে এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গত জাতীয় নির্বাচনে তিনি গোপনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন বাসিন্দা। এলাকাবাসী দ্রুত তার গ্রেপ্তার এবং এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যদি এরকম তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।