আতার ছত্রছায়ায় তার গাড়ীচালক ফরহাদ ছিলো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আতঙ্কের নাম - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আতার ছত্রছায়ায় তার গাড়ীচালক ফরহাদ ছিলো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আতঙ্কের নাম

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৭, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ফরহাদ হোসেনের সম্পদের পরিমাণ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকগুণ। শুধু সম্পদই অর্জন করেছেন তা নয় তিনি যেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের অঘোষিত উপজেলা চেয়ারম্যান। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সকল অপকর্মের বিশ্বস্ত সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে এই ফরহাদ হোসেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতার অবৈধ অর্থ বিভিন্ন জনের থেকে নিয়ে আসতেন এই ফরহাদ। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরহাদ হোসেন একজন গাড়িচালক হলেও তিনি উপজেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তার আদেশ মানতেন না। এমনকি উপজেলার কোয়ার্টার কোন ব্যক্তির নামে বরাদ্দ হতো ফরহাদের নির্দেশে। উপজেলা পরিষদে চাকরি করে না কিন্তু উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টার বসবাস করত বহিরাগতরা, এই সবই হয়েছে ফরহাদের নির্দেশ।

উপজেলা পরিষদের কোয়ার্টারে ফরহাদ যে বাসায় থাকেন সেই বাসার বারান্দায় থাই গ্লাস দিয়ে সাজিয়েছে এবং ঘরের ভিতরেও দামী আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো ঘর। আর এই গাড়িচালক ফরহাদ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতার সকল দুর্নীতির একমাত্র সাক্ষী হাওয়াই আতা নিজেই তাকে কিছু বলতেন না। আর এই সুযোগ ব্যবহার করেই ফরহাদ হয়ে ওঠে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের এক আতঙ্কের নাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী বলেন, আতা যখন ছিল তখন তার ড্রাইভার ফরহাদ আতার অনেক অপকর্মের টাকা লেনদেন করত। এবং অফিসে ফরহাদের দাপটে আমরা কথা বলতে পারতাম না। কাজের ফাঁকে আমাদের যদি ১৯ থেকে ২০ হতো তাহলে ফরাদ আতার কাছে কমপ্লেন করে আমাদের চাকুরী খাওয়ার হুমকি দিত। উপজেলার ছোটখাটো বিভিন্ন কাজের  মালামাল কিন্তু ফরাদ। এক টাকার মাল কিনে ৫ টাকা বিল করত এসব বিষয় নিয়ে আমরা যদি কথা বলতে যাইতাম তাহলে আমাদের চাকুরী থাকবে না এই হুমকি দিত। এমনকি উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্যারও ফরহাদের উপরে বিরক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা পরিষদের আরেকজন ভুক্তভোগী কর্মচারী বলেন,উপজেলা পরিষদের একটি কাজের জন্য ফরহাদ কোটেশন দিয়েছিল এক লক্ষ টাকার বেশি পরে সেই কাজ ইউ এন ও স্যার আমাকে কোটেশন দিতে বলেন, আমি সেই কাজের কোটেশন মাত্র ৫০ হাজার টাকা দেই। পরে স্যার আমাকে দিয়ে সেই কাজের জন্য জিনিসপত্র কেনাই।

তারপরে দিন ফরহাদ আমার কাছে ২ হাজার টাকা চাই। আমি বললাম কিসের টাকা, সে বলল ভালই তো ঠিকাদারি করছেন, আমাকে কিছু দিয়ে খান, পরে আমি বললাম আমি কোন টাকা খাইনি, ইউএনও স্যার এর কাছে যান, গিয়ে টাকার কথা বলেন। আমি কোন টাকা দিতে পারবো না। তারপর থেকে ফরহাদ আমার পিছে লেগে যাই এবং তার ৭ দিনের মাথায় আমি বরখাস্ত আমি হই। তিনি আরো বলেন আমাকে একটা মিথ্যা চুরির অপরাধ দিয়ে বরখাস্ত করে। উপজেলা পরিষদের সাবেক অঘোষিত চেয়ারম্যান আতা, তার ড্রাইভারের অবৈধ কাজের টাকা লেনদেন ও সাহায্যকারী না করায় ফরহাদের কথা শুনে আমাকে বরখাস্ত করে। এখনো হাইকোর্টে আমার মামলা চলমান রয়েছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক ফরহাদকে বিরুদ্ধে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু যন্ত্রাংশ  আছে যেগুলো গ্যারেজে পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে, তাই ওইগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। সরকারি যন্ত্রাংশ আপনি বিক্রি করতে পারেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা হয়েছে বিক্রি করেছি। আপনারা যা পারেন করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম শীল বলেন, ফরহাদের বিরুদ্ধে আপনাদের কাছে তথ্য প্রমাণ থাকলে আপনারা নিউজ করতে পারেন এবং তথ্য প্রমাণ দিয়ে আমাকে সাহায্য করলে আমি অবশ্যই ফরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।