মোঃ ফয়সাল ॥ কুষ্টিয়ায় মুজিববাদী চেতনা সমূলে উচ্ছেদ, আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে ‘জুলাইয়ের কাফেলা’ নামক ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র ও জনতা। গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ চত্ত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আপনারা চান এই বাংলার বুকে একটা জুলাই নেমে আসুক? আপনারা চান আরেকটা গণহত্যা নেমে আসুক? আসলে বাকশালের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব হত্যার পরে বাংলার মানুষ চায়নি পুনরায় বাকশাল ফিরে আসুক। তারপরও আমরা ৯৫-৯৬ তে দেখেছি এই মুজিববাদ, মুজিববাদের সন্ত্রাসীরা যারা আছে খুনি হাসিনার পিছনে এসে আ’লীগকে পুনরায় পুনরগঠিত করে পূর্ণশক্তি নিয়ে ৯৫-৯৬ এ ফিরে এসেছে। তারা ক্ষমতায় চেপে বসেছে এবং বাংলাদেশের বুকে তারা ১৬ বছরের একটা দুঃশাসন কায়েম করেছে।
এই যে ৭৫এ বাকশাল প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব হত্যার পরেও, আ’লীগ নির্মূল হওয়ার পরেও দীর্ঘ কয়েক দশক পরে আ’লীগ কিভাবে ফিরে আসলো এটা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে। আমাদের চিন্তাভাবনা করতে হবে কিভাবে যে আ’লীগ পূর্বের চেয়ে বেশি ক্ষমতা নিয়ে কিভাবে ৯৫-৯৬ এ ফিরে এসেছিল। কিভাবে বাকশাল বিলুপ্ত হওয়ার পরেও তারা বাকশাল ভার্সন টু নিয়ে ফিরে এসেছিল। কারন এই বাংলায় মুজিববাদের রাজনৈতিক বয়ান, সাংস্কৃতিক বয়ান জারি ছিল, প্রতিষ্ঠিত ছিল। আমরা রাজনৈতিক বয়ান ভাঙতে পারিনি, আমরা মুজিববাদের সাংস্কৃতিক বয়ান ভাঙতে পারিনি। যার কারনে আ’লীগ পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে ফিরে এসেছিল। এই জুলাইয়ের পরে খুনি হাসিনা বাংলাদেশে নেই, আ’লীগের কিছু উচ্চপদস্থ নেতারা বাংলাদেশে নেই। কিন্তু মুজিববাদ এই বাংলাদেশে আছে, মুজিববাদী সন্ত্রাসীরা এই বাংলাদেশে আছে। আমরা যতদিন পর্যন্ত এই বাংলার জমিন থেকে যেখানেই মুজিববাদ, মুজিববাদীরা আছে তাদেরকে উৎখাত করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আসংখ্যা রয়েই যায় এই বাংলাদেশে আ’লীগ ফিরে ফিরে আসবে, হয়তো বিভিন্ন নামে আসবে কিন্তু আ’লীগ ঠিকই ফিরে আসবে। যদি না আমরা এই রাজনৈতিক বয়ান এবং মুজিববাদের সাংস্কৃতিক বয়ানকে বন্ধ না করতে পারি।
সাংস্কৃতিক বয়ান বলতে আমি এখানে বোঝাচ্ছি আপনারা দেখেছেন, মুজিবের চেতনা, একাত্তরের চেতনা, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, কোনোকিছু হলে জামাত শিবির ট্যাগ দিয়ে জেলে ভরে দেওয়া। এই যে যেই গুম, খুন কালচার একটা ছিল সাংস্কৃতি কায়েম করেছিল আ’লীগ সরকার এটা এখনও জারি আছে। আমরা আয়নাঘর দেখেছি কিনা, আমরা কি আবার আয়না ঘর চাই? আমরা কি আবার মুজিববাদ চাই? আমরা কি মুজিববাদিদের এই বাংলাদেশে উচ্চ পদের আসনে থাকতে দিতে চাই? আমি সামান্য একটা কথা বলি, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের ডা. তাপস কুমার পাল, জুলাই আন্দোলন যখন চলছিল, তখন জুলাই আন্দোলনে যে সকল যোদ্ধারা আহত হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তখন এই তাপস কুমার পাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিষেধ করেছিলেন তাদের সেবা দেওয়ার জন্য।
এইযে এটা মুজিববাদ, এটা হিন্দুত্ববাদ, এটা ভারতলীগ আমাদেরকে এটা বুঝতে হবে। এই যে ইসলাম, বিশুদ্ধ ইসলামের কথা বললে আমাদের কে জামাত শিবির, জঙ্গি সন্ত্রাসী ইত্যাদি ট্যাগিং দিয়ে গুম, খুন জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এটা হচ্ছে আ’লীগের সাংস্কৃতিক বয়ান। আমাদের কে এই বয়ান ভাঙতে হবে, মুজিববাদের বয়ান ভাঙতে হবে। যতদিন পর্যন্ত এই বাংলার জমিন থেকে মুজিববাদ এবং মুজিববাদীদেরকে উৎখাত করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত আ’লীগ আমাদের ঘারে পুনরায় চেপে বসার সম্ভবনা আছে। আমাদের জুলাইয়ে যে রক্তগুলো বৃথা গিয়েছে, জুলাইয়ে আমাদের যে কুরবানিগুলো হয়েছে আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই। আমরা বিচার চাই আবুসাইদের, আমরা বিচার চাই মুগ্ধর, আমরা বিচার চাই এই জুলাই আন্দোলনের শত-সহস্র যে ভাই বোনেরা জীবনহানি হয়েছে তাদের।
এই জুলাই আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন আমরা তাদের বিচার চাই। আমরা বিচার চাই খুনি হাসিনার, আমরা বিচার চাই বাংলাদেশ আ’লীগের, আমরা বিচার চাই মুজিববাদের প্রতিটি সন্ত্রসীদের। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। ছাত্রলীগ মুজিববাদের একটা শাখা। আমাদের যদি স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হয়, জুলুমমুক্ত বাংলাদেশ যদি গড়তে হয়, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ যদি গড়তে হয়, ইনসাফের বাংলাদেশ যদি গড়তে হয় তাহলে এই বাংলাদেশ থেকে এই জমিন থেকে এই শাহজালালের ভুমি থেকে মুজিববাদের শিকড় সমূলে উপড়ে ফেলতে হবে। আমরা ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন জারি রাখবো যতদিন পর্যন্ত না এই বাংলার জমিন থেকে মুজিববাদ এবং মুজিববাদিদের কে আমরা উৎখাত করতে পারছি।
