আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রশ্রয় দিবেন না: অধ্যক্ষ সোহরাব - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রশ্রয় দিবেন না: অধ্যক্ষ সোহরাব 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৯, ২০২৫

বিগত দিনে মুক্তমঞ্চে ও মুক্ত পরিবেশে কথা বলার কোন সুয়োগ ছিলো না: জাকির সরকার

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কুষ্টিয়া পৌর শাখার বিশেষ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া রেণইউক এন্ড যজ্ঞেস্বর সংলগ্ন গড়াই নদীর বাঁধ মাঠে এ কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পৌর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ, কে বিশ্বাস বাবু, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ, বশিরুল আলম চাঁদ, জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ইসমাইল হোসেন মুরাদ, কামাল উদ্দিন, আল আমিন কানাই, আব্দুল মাজেদ, আবু তালেব, শহিদুজ্জামান খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক মাহাবুব আলম বিশু।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন,  সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আওয়াল বাদশা, শহর যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুমন ও সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান জনি সহ জেলা ও পৌর কমিটির নেতৃবৃন্দ। প্রধান বক্তার বক্তব্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের ফলে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা সমাবেত হতে পেরেছি। আপনারা নিশ্চয় জানেন বিগত ৫ই আগস্টের আগে এই ভাবে উন্মুক্ত মাঠে আমাদের সমাবেশ বা কর্মি সভার করার কোন অধীকার ছিলো না। বিগত দিনে আমরা যে সভা সমাবেশ করেছি, যে মিটিং করেছি তা হয়তো কোন ছোট ঘরে অথবা স্বল্প পরিসরে। বিগত দিনে মুক্তমঞ্চে ও মুক্ত পরিবেশে কথা বলার কোন সুয়োগ ছিলো না। বিগত দিনে আমরা সভা সমাবেশ করার অনুমতি চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের এভাবে মুক্তমঞ্চে ও মুক্ত পরিবেশে সভা সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হইনি।

অনেকেই বলে গেলো আমাদের দলের মধ্যে অনেক বিভাজন আছে, অনেক বিতর্ক আছে। আমি বলতে চাই ছোট খাট যে বিভাজন-বিতর্ক আপনারা দেখতে পান, দলের মধ্যে বিভাজন-বিতর্ক ছিলো শুধুমাত্র কমিটি গঠন ও নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে। আর কোন বিষয়ে নয়। আমরা যদি এইভাবে উন্মুক্ত পরিবেশে সবাইকে নিয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে আমরা যদি নেতা নির্বাচন করতে পারি, আমরা যদি কমিটি গঠন করতে পারি, তাহলে আমাদের দলের মধ্যে আর কোন বিভাজন থাকবে না। আজকে আমরা আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি, গঠনতন্ত্রের আলোকে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠনের বার্তা নিয়ে। বিগত ৫ই আগস্টের পরে দেশনায়ক তারেক রহমান সারা বাংলাদেশে কমিটি পূর্ণগঠনের যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা আজকে আপনাদের সামনে হাজিন হয়েছি। আপনারা জানেন এই কুষ্টিয়া পৌরসভায় ২১টি ওয়ার্ড আছে। এই কুষ্টিয়া পৌরসভা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পৌরসভা। এই কুষ্টিয়া পৌরসভাকে আমরা যদি পূর্ণগঠন করতে পারি, দল যদি পূর্ণগঠন করতে পারি, তাহলে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আমাদের এই দল শক্তিশালী হবে।

সভায় প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রশ্রয় দিবেন না। গত ৩০ডিসেম্বর সদর উপজেলা বিএনপির কর্মী সভার কথা উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, সেদিনের কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই সকলে চলে গিয়েছে। যাদেরকে চলে যেতে দেখেছি তারা আওয়ামী লীগের দোসর। গত ৫ আগস্টে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু তাদের দোসররা সুবিধা পেতে বিএনপির সাথে সাময়িক সময় দিচ্ছে, যারা সুবিধাবাদী তাদেরকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আরো বলেন, সদর উপজেলার সকলকে আমি চিনি। ওই দিনের সমাবেশ শেষ হওয়ার আগে যারা চলে গিয়েছিলো তারা আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফার লোকজন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬বছর ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের নির্যাতনে যারা রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছে তাদেরকে আগে মূল্যায়ন করার আহব্বান জানান। দলের ভাবমূর্তি যারা নষ্ট করার চেষ্টা করবে তাদের বিএনপিতে জায়গা হবে না। সমাবেশে কুষ্টিয়া পৌর সভার ২১টি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। কর্মীসভা শেষে কুষ্টিয়া পৌর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। আগামী দিনের কমিটিতে পরিক্ষিত নেতাদের যাচাই বাছাই করে নতুন কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানানো হয়।