কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ আজ ১৩ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের অমর কথাসাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৮ তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৪৭ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়য়ের সহযোগীতায় এ উপলক্ষে কবির বাস্তুভিটা লাহিনীপাড়ায় দুইদিন ব্যাপী লাঠিখেলা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অন্ষ্ঠুান, নাট্যানুষ্ঠান, গ্রামীণ মেলাসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন।
উদ্বোধনী অন্ষ্ঠুানে প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রথম দিন বিকেলে লাঠিখেলা ও আলোচনা সভা শেষে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্যানুষ্ঠান। এদিন মঞ্চায়িত হবে কবির লেখা নাটক “ জমিদার দর্পণ “। পরিবেশনা করবেন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি নাট্যগোষ্ঠীর শিল্পীবৃন্দ। দ্বিতীয়দিন মধ্যরাতে কবির কালজয়ী উপন্যাস বিষাদ-সিন্ধু অবলম্বনে নাটক “এজিদের পরিণতি” মঞ্চায়িতর মধ্যদিয়ে শেষ হবে জন্মোৎসব।
মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্যকর্ম রচনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ভারতী, সংবাদ প্রভাকর, মিহির, হাফেজ, আহমদী, নবরত্ন প্রভৃতি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ফারসি ভাষা রপ্ত করেন তিনি। ধর্ম, আইন, প্রবন্ধ, ইতিহাস বিষয়ে আলোচনা, নাটক, গান ও উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। এরমধ্যে কোরআন, শাহনামা, গুলিস্তা, কাসাসুল আম্বিয়া, রামায়ন-মহাভারত, বিদ্যাসুন্দর দাশরথী রায়ের পাঁচালী, বানভট্রের কাদম্বরী উল্লেখযোগ্য। ১৮৬৯ সালে লেখা মীর মশাররফ হোসেনের “রত্নবতী” উপন্যাসটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এরপর তাঁর অমর সৃষ্টি ১৮৮৫ সালে লেখা “বিষাদ সিন্ধু” এ ছাড়া উদাসীন পথিকের মনের কথা, রাজিয়া খাতুন, তহমিনা, বাঁধাখাতা, বধূমাতাও উল্লেখ্য। তার রচিত নাটক বসন্ত কুমারী ও জমিদার দর্পণ আমাদের বাংলাসাহিত্যে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। মীর মশারফ হোসেনের পিতার নাম ছিল মীর মোয়াজ্জেম হোসেন, মাতার নাম ছিল দৌলতন নেসা। তিনি ১৯১১ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, কবির ১৭৮ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী লাঠিখেলা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক, নাট্যানুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
