অভিযানে সত্যতা মিললেও ধরাছোঁয়ার বাইরে জড়িতরা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অভিযানে সত্যতা মিললেও ধরাছোঁয়ার বাইরে জড়িতরা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

অবৈধভাবে কাটা মাটি যাচ্ছে অবৈধ ইটভাটায় 

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ফসলি জমির মাটি কেটে তা অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে অভিযোগের সত্যতা মিললেও তোন ব্যাবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদির আলীনগর এলাকার একটি মাঠে গত এক সপ্তাহ ধরে স্কেভেটর মেশিন দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কাটা হচ্ছিল। দিনের বেলায় মাটি কেটে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত অবৈধ স্টিয়ারিং গাড়িতে করে তা সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা স্কেভেটর মেশিন ফেলে দ্রুত সরে পড়ে। ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার আলামত পাওয়া গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আব্দুল হান্নান হানুর নেতৃত্বে থানারমোড়ের জয়রামপুর এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, কাটা মাটি উপজেলার থানার মোড় এলাকার এম এম জে ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এর আগে প্রশাসন থেকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে ফিলিপনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, “স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান হানুর নেতৃত্বেই মাটি কাটা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।” অন্যদিকে, এম এম জে ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী মতিউর রহমান বলেন, “আমার ভাটার অনুমোদন ছিল, তবে তা বাতিল হয়েছে। আমি সরাসরি মাটি কিনি না; স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই মাটি সরবরাহ করে তাই তারা মাটি কোথা থেকে দেয় সেটা আমি জানিনা।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সবাই যেভাবে অবৈধভাবে ইটভাটা চালাচ্ছে, আমিও সেভাবেই চালাচ্ছি।” উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, “অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালানো হয়েছে। মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।