অফিস সময়েও ফাঁকা ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিস - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অফিস সময়েও ফাঁকা ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিস 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৮, ২০২৬

অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকার নির্ধারিত নতুন অফিস সময়সূচি কার্যকরের পরও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসে তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস সময় চলাকালীন অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি, হাজিরা খাতায় অসঙ্গতি এবং মুভমেন্ট রেজিস্টার দেখাতে গড়িমসি সব মিলিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসে চরম শৃঙ্খলাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, ৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসের নতুন সময়সূচি কার্যকর করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খাবার ও নামাজের বিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে গতকাল দুপুর ২টার দিকে ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহামুদা সুলতানা ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আশফাকুর রহমানের কক্ষ বন্ধ। ভেতরে কেউ ছিলেন না। পাশের একটি কক্ষে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মাসুদ রানা অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, ওই দপ্তরে মোট ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে এসএপিপিও সোহারাব হোসেন, অফিস সহায়ক নজরুল ইসলাম ও ড্রাইভার আব্দুল লতিফ উপজেলা কৃষি অফিসারের সঙ্গে ফিল্ডে গেছেন।

এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অফিসারের সঙ্গে নিরাপত্তা প্রহরী আলমগীর হোসেনও ফিল্ডে রয়েছেন। তিনি আরও জানান, উচ্চমান সহকারী নাজমা আহমেদ কিছুক্ষণ আগে খাবারের বিরতিতে গেছেন এবং এসএম পদে দায়িত্বরত কামরুজ্জামান পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে নিরাপত্তা প্রহরী জুলহাস ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী সেলিনা খাতুন গার্ড রুমে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার নির্ধারিত বিরতির সময় শেষ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পরও কীভাবে তারা খাবার বিরতিতে ছিলেন? এ বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার কিছুক্ষণ পর দুপুর আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে সরকারি গাড়িতে করে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহামুদা সুলতানা অফিসে প্রবেশ করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, সবাই অফিসে আছেন। কিন্তু তিনি সবাইকে ডাকলেও অনেককেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, তিনি ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ফিল্ডে ছিলেন। তবে সরকারি অফিস সময়সূচি মেনে চলা এবং নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।

এরপর দুপুর আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে অফিসে প্রবেশ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আশফাকুর রহমান। এদিকে হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক কর্মচারী টানা দুই দিন স্বাক্ষর করেননি।

অথচ অফিস কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। তাহলে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই কেন এ প্রশ্নেরও জবাব মেলেনি। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, অফিসের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুভমেন্ট রেজিস্টার দেখাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, ওই দুই কর্মকর্তা নিজেদের কাছেই রেজিস্টার সংরক্ষণ করেন। পরে উপজেলা কৃষি অফিসার মুভমেন্ট রেজিস্টার থাকার কথা স্বীকার করলেও সেটি কোথায় আছে—সে প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যান। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারি অফিস সময়সূচি পরিবর্তন করা হলেও মাঠ প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে যদি এমন শিথিলতা থাকে, তাহলে সেবা নিতে আসা সাধারণ কৃষকরা কীভাবে সময়মতো সেবা পাবেন?

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি অফিসারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী পর্বে ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তার বক্তব্য সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।