ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া সোহাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার এবং অপহরণের সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করেছে র?্যাব-১ এর একটি চৌকস দল। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রী সোহাকে উদ্ধার ও মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পাশাপাশি অপহরণের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজের মা মোছাঃ পারুলা খাতুনকেও আটক করেছে র?্যাব-১। এছাড়াও অপহৃত স্কুলছাত্রীকে বিদেশে পাচার করার লক্ষ্যে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে পাসপোর্ট তৈরীতে সহযোগিতার অভিযোগে এক দালালকেও আটক করা হয়েছে। তবে এই অপহরণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একরামুল হক ডালিম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকেও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

ভেড়ামারা থেকে অপহৃত স্কুলছাত্রী ২ মাস পর উদ্ধার, ৩ জন গ্রেফতার

র‌্যাব-১ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, অপহরণের ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজ জুলাই মাসের ২৪ তারিখ বাংলাদেশ ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। অপহরণের ঘটনায় মামলা হলেও মূল অভিযুক্ত দেশের বাইরে পালিয়ে থাকার কারনে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে র‌্যাব-১ এর একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত ১নং আসামী মাসুদ পারভেজকে গ্রেফতার করে। মাসুদ পারভেজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে র‌্যাব-১। এসময় অপহরণে সহযোগিতার অভিযোগে মাসুদ পারভেজের মা মোছাঃ পারুলা খাতুনকেও আটক করা হয়। এই মামলায় আটক অপর ব্যক্তি অপহৃত স্কুলছাত্রীকে দেশের বাইরে পাচার করার লক্ষ্যে ভূয়া পাসপোর্ট তৈরীতে সহযোগিতার জন্য এক দালালকে আটক করা হয়েছে।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

ভিকটিমকে উদ্ধার করার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আবুল বাসার ভিকটিম ও আসামীদের র‌্যাব-১ এর কাছে থেকে বুঝে নিয়ে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ভিকটিম স্কুলছাত্রী ২২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের আদেশে ভিকটিমকে তার মা হ্যাপি আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার ও আটক ৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তিন জনকেই জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী ও ভিকটিমের মামা সোহেল রানা জানান, দীর্ঘ দুই মাস পর আমার ভাগ্নিকে অক্ষত উদ্ধার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি যারা এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত আছে তাদেরকেও আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এই অপহরণের ঘটনার মূল অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজের চাচা একরামুল হক ডালিম সরাসরি জড়িত আছে। একরামুল হক ডালিম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সেপাহী পদে কর্মরত থাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দুই মাস আমার ভাগ্নিকে অপহরণ করে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকতে অভিযুক্ত মাসুদ পারভেজকে সহযোগিতা করেছে। আমরা এই মামলায় একরামুল হক ডালিমকেও অভিযুক্ত সাপেক্ষে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম আবুল বাসার জানিয়েছেন অপহরণের ঘটনায় তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমকে তার মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলমান। খুব দ্রুত সময়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসের ৩ তারিখ বিকেলে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল মাওয়া সোহাকে অপহরণ করে অভিযুক্তরা।

এই ঘটনায় সোহার মামা সোহেল রানা ১ জনকে আসামী করে ভেড়ামারা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৩, তারিখ- ০৬/০৭/২০২৩ ইং।

আরও পড়ুন: