নিজ সংবাদ ॥ মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে ভয়ংকর শব্দ তৈরি করে কুষ্টিয়ায় দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে এক শ্রেণির বাইকার। অধিকাংশ মোটরযানেউচ্চ গতিতে হলার ও হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে। আবার বাইকচালকরা একসঙ্গে দলবেঁধে রাস্তায় প্রতিযোগিতায় নেমে বিকট শব্দে হর্ন বাজায়। তখন এলাকায় আতঙ্ক দেখা দেয়। কিন্তু প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। প্রতিটি স্থান থেকে উচ্চ গতিতে হলার থেকে নির্গত কান ফাটানো শব্দ করে দিনে-রাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এরা। এর সাথে রয়েছে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের প্রবনতা। এসব মোটরসাইকেল চালকদের প্রায় সবাই নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। কুষ্টিয়ায় এমন মোডিফাইড বাইকের সংখ্যা হাতেগোনা থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুন। অভিযোগ আছে, উচ্চ গতিতে হলার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ফলে উচ্চ শব্দের এমন বেপরোয়া ব্যবহারে বিষিয়ে উঠছে কুষ্টিয়াবাসীর জীবন। বিশেষ করে কুষ্টিয়া এন,এস রোড, পাঁচ রাস্তার মোড়,ছয় রাস্তার মোড়, আমলা পাড়ি, সিঙ্গার মোড়,মিল পাড়া, হাউসিং, হরিপুর সেতু, সহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে উচ্চ শব্দ ব্যবহার নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া উচ্চ মাত্রার হর্ন ব্যবহার রোধে আইনে কড়াকড়ি থাকলেও কুষ্টিয়ায় তা উপেক্ষিত। এমনকি মজমপুর ট্রাফিক বক্স, থানার মোড়ের সামনে দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি অপ্রয়োজেনে উচ্চ শব্দ ব্যবহার করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সচেতন মহল বলছেন, শব্দ দূষণ রোধ করা না গেলে বসবাসের উপযোগিতা হারাতে পারে এই শহর। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, এক দশকের ব্যবধানে হৃদরোগ এবং শ্রবণ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। এর পেছনে শব্দ দূষণ অনেকাংশে দায়ী।
কোলাহল শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এবং শিশুর পড়াশোনা এবং আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শব্দদূষণ স্বাস্থ্য এবং আচরণ উভয়কেই প্রভাবিত করে। অযাচিত শব্দ শারীরবৃত্তীয় স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। শব্দ যখন ঘুম বা কথোপকথনের মতো স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে হস্তক্ষেপ করে বা কারও জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে বা হ্রাস করে তখন অযাচিত হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে সামাজিক বিশৃঙ্খলা বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন এই শব্দের মধ্যে যারা থাকে, তাদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে তরুণরা শখের বশে মোটরবাইকে যে বিকট শব্দের সাইলেন্সার-হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করে তা সাধারণত ৯০ ডেসিবেলের ওপরে। যা মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শব্দ দূষণে শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুদের শব্দধারণ ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো না। শিশুদের পাশে উচ্চ শব্দ করলে বধির হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আবাসিক অঞ্চলে গড় শব্দের মান ৯৭ ডেসিবেল, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত গড় আওয়াজ স্তর মান ৫০ ডেসিবেলের অনেক ঊর্ধ্বে। গবেষণা থেকে জানা যায়, স্বল্প-আয়ের এবং জাতিগত সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ সর্বাধিক। উচ্চ শব্দের মাত্রা মানুষের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার প্রাব এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। প্রাণীদের মধ্যে শব্দদূষণ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে, প্রজনন এবং নেভিগেশনে প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্থায়ীভাবে শ্রবণ অঙ্গের ক্ষতিসাধন করতে পারে। মানুষের কান যেকোনো শব্দের ব্যাপারে যথেষ্ট সংবেদী।
