অতিরিক্ত চাপ দিলে চালের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে: মিল মালিকদের হুশিয়ারি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অতিরিক্ত চাপ দিলে চালের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে: মিল মালিকদের হুশিয়ারি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২২, ২০২৪

চালের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে দেশে মিনিকেট চালের (সরু চাল) প্রধান মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিয় সভা করেছেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা। রোববার বিকেল চারটায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অতিরিক্ত চাপ দিলে চালের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে: মিল মালিকদের হুশিয়ারি

এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা এবং জেলার পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় মিল মালিকদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেন, চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের কোন হাত নেই। বাজারে ধানের দাম চড়া হাওয়ায় চালের দাম বেড়ে গেছে। তবে গত দুই তিন দিন ধরে বাজার কমতে শুরু করেছে বলে তারা জানান।এ সময় মিল মালিকদের কেউ কেউ পরস্পর বিরোধী বক্তব্যও দেন। আনোয়ার হোসেন নামের এক মিল মালিক দাবি করেন, খাজা নগর মোকামের কিছু বড় মিল মালিকের গুদামে ধানের মজুদ রয়েছে। কিন্তু তার মত ছোট ছোট মিল মালিকরা প্রায় প্রতিদিন ধান কিনে চাল তৈরি করেন। এক্ষেত্রে বড় মিল মালিকরা চালের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তার দাবি। তিনি বলেন বাজারে ধানের কোন সংকট নেই। তাই হঠাৎ করে চালের মূল্য কেজিতে ৪-৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়া অস্বাভাবিক এবং যে কোন সময় আরও বেড়ে যেতে পারে। স্বর্ণা অটোরাইস মিলের মালিক আব্দুস সামাদ বলেন, ঘনকুয়াশা, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোটের কারণে চালের দাম বেড়েছে। তবে এখন কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অটোরাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়ার সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, সরু চালের মৌসুম থেকে ৯ মাস অতিক্রম করেছে। এই সময়ে প্রতিবছরই সরু চালের দাম বেড়ে থাকে। আমরা কমানোর চেষ্টা করছি। দেশ এগ্রোর আব্দুল খালেক বলেন, মিল মালিকদের অতিরিক্ত চাপ দিলে চালের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, মাত্র ৫-৬ জন মিলার সিন্ডিকেট করে। প্রশাসনের দায়িত্ব তাদের খুঁজে বের করা।বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, চালের বাজার এখন প্রতিযোগিতামূলক। এখানে কেউ সিন্ডিকেট করে না। তিনি সরকারি সংগ্রহ অভিযানের দরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দিতে গিয়ে সরকারই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি কর্পোরেট কোম্পানি দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে সাংবাদিকরা বারবার ওইসব কোম্পানির নাম চাইলেও তিনি তা প্রকাশ করেননি। এ সময় সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রশিদ মিটিং ছেড়ে উঠে যেতে উদ্যত হন।তবে কোন কোন ব্যবসায়ী ও মিল মালিক বলেন, ছোট ওম মাঝারি কোন কৃষকের ঘরে ধান নেই। বেশির ভাগ ধান বড় কৃষক, ফড়িয়া ও ব্যবসায়ী  ও মিল মালিকদের গোডাউনে আছে। তাই সামনে বোরো মৌসুমের আগে ধানের বাজার বাড়াতে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তাদের চিহিৃত করতে হবে।জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা কুষ্টিয়ার মোকামে চালের মূল্য নির্ধারণের জন্য সবার মতামত চাইলে কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, হঠাৎ করে দাম বৃদ্ধির আগে খাজানগর মোকামে মিলগেটে মিনিটের চালের দাম ছিল ৬০ টাকা কেজি। তিনি সেই দাম বলবত রাখার জন্য প্রস্তাব করেন। এতে চাল কল মালিকরা প্রতিবাদ জানান।জেলা প্রশাসক মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৬১ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৬৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। এতেও রাজি হননি চাল কল মালিকরা। তারা জানান ৬২ টাকার নিচের তারা মিনিকেট চাল সরবরাহ করতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই  সভা শেষ হয়।