দৌলতপুরে হামের প্রাদুর্ভাব: আক্রান্ত ১০ শিশুটিকা বঞ্চিত ২৩০ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে হামের প্রাদুর্ভাব: আক্রান্ত ১০ শিশুটিকা বঞ্চিত ২৩০ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৩১, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে সরজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়  ৮ নম্বর বেডে মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীর চর এলাকার গৃহিণী সারমিন খাতুন তার ৮ মাস বয়সী শিশু আমেনা খাতুনকে নিয়ে গত শুক্রবার থেকে ভর্তি আছেন। জ্বর, ঠান্ডা ও শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা শিশুটির হাম শনাক্ত করেন।

শিশুটি ওই এলাকার ছোটন আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে একজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে, বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, আক্রান্তদের বেশিরভাগই ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু। যেসব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। এদিকে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হামের টিকার স্বল্পতা থাকায় উপজেলায় অন্তত ২৩০ জন শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আক্রান্ত শিশু আমেনার মা সারমিন খাতুন বলেন, “বৃহস্পতিবার থেকে আমার বাচ্চার জ্বর, ঠান্ডা ও পাতলা পাইখানা শুরু হয়। । পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠে। শুক্রবার হাসপাতালে নিয়ে এলে ডাক্তার বলেন, সে হামে আক্রান্ত।” দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, “হাম একটি সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা না নিলে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।” এদিকে টিকা সর্বারহ ও হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাথে কখা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানিয়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিন্দ্য গুহ। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা দেওয়ার পাশাপাশি জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।