নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর জেলায় বালু মহাল ব্যবসায় চলমান ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছে। এক সময়ের লাভজনক ও চাঙা এই খাত এখন লোকসানের মুখে, ফলে বৈধ ইজারাদার থেকে শুরু করে চাতাল ও স্টক ব্যবসায়ীরা চরম সংকটে পড়েছেন। যার ফলে বালু ব্যবসায় জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিভিন্ন বালুঘাটে বৈধ ইজারা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি দর হাঁকা হয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বালুর দামে প্রতি সেফটিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে খুঁটিগাড়ার ক্ষেত্রেও প্রতি সেফটিতে ২ থেকে ৩ টাকা দাম বেড়েছে। যার ফলে চাতাল ও স্টক ব্যবসায়ীদের খরচ বৃদ্ধির সাথে সাথে বালু সংশ্লিষ্ট খাত গুলোতে ব্যয় বেড়েছে। এদিকে শুধু মূল্যবৃদ্ধিই নয়, একাধিক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন বৈধ ইজারাদাররা। বৈরী আবহাওয়া, নদীতে পানি স্বল্পতা, অবৈধ দখলদারিত্ব, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা, জ্বালানি তেলের সংকট ও উচ্চমূল্য-সব মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক ইজারাদার ও ব্যবসায়ী।
এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের প্রভাবও এই ব্যবসায় অস্থিরতা তৈরি করছে। বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত মালিকদের সূত্রে জানা যায়, গত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মাঝেমধ্যে বালু ব্যাবসা কাগজ-কলমে চলমান থাকলেও মাঝে মধ্যে তা বন্ধ হয়ে যায়। বালুর অতিরিক্ত মূল্য এবং চাহিদা মোতাবেক জ্বালানী তেলের স্বল্পতার কারণে বালু পরিবহনকারী নৌ চ্যানেল গুলো প্রায় নৌকা শূণ্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মহীন নৌকার মাঝিরা নৌ চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে নৌকা নোঙর করে অলস সময় পার করছেন। যার ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা বিপদের মাঝে রয়েছে তারা। তবে তারা আশাবাদী সরকারের হস্তক্ষেপে অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে এবং তারা আবার কর্মে ফিরবেন। সূত্র মতে, এ বছরের পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যত অধিকাংশ ঘাটে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
বিশেষ করে নাটোর জেলার লালপুর এলাকার বালুঘাটগুলো আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ হয়ে আছে। অন্যদিকে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর নামক একটি মাত্র বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত ঘাট হতে বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া প্রস্তুতিমূলক রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বালুর দাম অতিরিক্ত বৃদ্ধির ফলে বালু ব্যবসায়ীরাও বালু উত্তোলনে অনীহা প্রকাশ করছেন। যার কারণে বৈধভাবে ইজারা নিয়েও বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার।
জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলায় বর্তমানে কোনো বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত বালুঘাট চালু নেই, যা স্থানীয় বাজারে বালুর সরবরাহকে আরও সংকুচিত করেছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ইজারা মূল্য পুনর্বিবেচনা, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং নদীপথে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ খাতে স্থিতিশীলতা না ফিরলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো।
