বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের উত্তর মিলপাড়া এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে অভিযুক্ত আছাই (৩৫) নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। অভিযুক্ত আছাই ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও তার পরিবার জানায়, গতকাল রোববার (৭ জুন) আনুমানিক সকাল ১১ ঘটিকায় উত্তর মিলপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত আছাই ঐ শিশুকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
শিশুটির দাদা-দাদী জানান যে, স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রাচীরের উপর দিয়ে মেয়েটিকে অপর পাশে তুলে দিয়ে নিজে জামগাছ ধরে প্রাচীর টপকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। শিশুটির দাদা সজন জানান যে, আছাই আমাদের দোকানের উপরে সকালে চা খেতে আসে চা খাওয়ার এক পর্যায়ে আমার নাতি যখন খেলা করতে ঈদগার মাঠের দিকে যায় তখন আছাইও দোকান থেকে তড়িঘড়ি করে উঠে চলে যায়। পরবর্তীতে মোমেনা নামের আরেকটি শিশু কন্যা স্কুলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিশুটির চিৎকার শুনে দ্রুত শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মাকে জানায়।
সংবাদ পেয়ে শিশুটির বাবা-মা ও দাদা দাদী দ্রুত স্কুলের উপরে চলে যায় ততক্ষণে লম্পট আছাই দৌড় দিয়ে স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবার ও প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানতে পারলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার জানাজানি হতেই স্থানীয় শতশত ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আছাইকে ধাওয়া করে ধরে এনে গণপিটুনি দেয়।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মিলপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে, গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “এমন জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) সম্পন্ন হওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত আছাই বর্তমানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
