বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় এইচআইভি ও এইডস বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়বদ্ধতা এবং সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার ইস্যুতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংবাদিকদের নিয়ে এক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে ‘পার্সোনাল রিগার্ডিং এইচআইভি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কেপি সেন্টার। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তানজিলা তাজু। তিনি এইচআইভি মোকাবিলায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি, রোগ প্রতিরোধ এবং মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “এইচআইভি শুধু একটি শারীরিক রোগ নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু। দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সঠিক তথ্য প্রচার সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য কমাতে সহায়ক।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা আল মামুন সাগর বলেন, সমাজসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই একজন সাংবাদিকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
কর্মশালায় এইচআইভি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশে নৈতিকতা ও মানবাধিকারের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রাখা, সম্মতি ছাড়া ছবি প্রকাশ না করা এবং কলঙ্কজনক বা বৈষম্যমূলক ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে এইচআইভি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, সার্জারি, কিডনি ডায়ালাইসিস, রক্ত গ্রহণ বা গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের মধ্যে এইচআইভি পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, ডায়রিয়া, মুখে ঘা বা অস্বাভাবিক ওজন কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া জনসচেতনতার অংশ হিসেবে জানানো হয়, আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাওয়া, হাত মেলানো কিংবা একই টয়লেট ব্যবহার করলে এইচআইভি ছড়ায় না। এটি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা এবং সেলুন বা বিউটি পার্লারে জীবাণুমুক্ত সরঞ্জাম ব্যবহারে সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। কর্মশালায় আরও বলা হয়, জনমত গঠন ও নীতি নির্ধারণে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ইনজেকশন ড্রাগ ব্যবহারকারী, যৌনকর্মী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবাদিকদের প্রমাণভিত্তিক ও জেন্ডার সংবেদনশীল রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মাটির ডাক এর সম্পাদক লুৎফর রহমান কুমার, সময়ের কাগজ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু, প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান, দেবাশীষ দত্ত, দৈনিক সূত্রপাত এর প্রকাশক ও সম্পাদক মুকাদ্দেদ হোসেন সেলিম, দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার বার্তা সম্পাদক অঞ্জন শুভ, ইত্তেফাক মাল্টিমিডিয়ার প্রতিবেদক আরেফিন সাগরসহ কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। সামাজিকভাবে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি ঘৃণা বা বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাদের অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বানের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি হয়।
