বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভায় মশা নিধন কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ২১ লিটার মশা নিধনের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় দুই মাস কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগও উঠেছে। মাত্র আটজন কর্মী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে মশা নিধনের কাজ। তাঁদের মাথাপিছু দৈনিক বেতন-ভাতা ৩১৫ টাকা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডে মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগে। ফলে এত অল্প সময়ে একটি ওয়ার্ডের সব এলাকায় কার্যকরভাবে মশা নিধন করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কর্মীর সংখ্যা, ওষুধের পরিমাণ, কাজের সময় এবং কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার নাম-ঠিকানা খাতা-কলমে লিপিবদ্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, বাস্তবে কোন রাস্তায় কখন মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকায় কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভার বাসিন্দারা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ নির্ধারিত পৌরকর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করলেও মশা নিধনসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গত ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ১৮ অক্টোবরের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের তথ্যে আরও দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৬৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং এ সময়ে চারজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা পৌরসভার মশা নিধন কার্যক্রমে অনিয়মের সরাসরি প্রমাণ নয়।
পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডে কতটুকু ওষুধ বরাদ্দ ও ব্যবহার করা হয়েছে, আটজন কর্মীর মাধ্যমে কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাঁদের বেতন-ভাতার হিসাব কী এবং কোন কোন রাস্তায় কখন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে—এসব বিষয়ের নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত ও কার্যকর মশা নিধন কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
একই সঙ্গে গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় দুই মাস কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগের কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পৌরসভার ওষুধ ক্রয়, মজুত, বিতরণ, কর্মীদের হাজিরা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের রেকর্ড পরীক্ষা করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
এ অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেশমা খাতুনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।









