বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ৫০তম জাতীয় ‘বি’ চ্যাম্পিয়নশিপ দাবার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমসাময়িক কালে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ দাবাড়ু ডঃ কাজী মোতাহার হোসেনের জন্মভূমি কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে ৫০তম জাতীয় ‘বি’ চ্যাম্পিয়নশিপ দাবা-২০২৬। বরিশাল ও খুলনা বিভাগের দাবাড়ুদের অংশগ্রহণে গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ডরমিটরি ভবনে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে খেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) উপসচিব মিজানুর রহমান। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব তানভীর হোসেন।
প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কুষ্টিয়া এসিপিবির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজু, সাধারণ সম্পাদক মুহায়মেনুল ইসলাম খোকন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর আলম মঞ্জু। এছাড়া অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংগঠক, দাবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মিজানুর রহমান বলেন, ড. কাজী মোতাহার হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ুর জন্মভূমি হিসেবে কুষ্টিয়ার দাবার ঐতিহ্য রয়েছে। এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা আশা করি।
দাবা শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের মেধা, ধৈর্য, কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে দাবার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিযোগিতাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, এই শহরে জাতীয় পর্যায়ের দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার ক্রীড়া ও দাবার ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আমি মনে করি। ড. কাজী মোতাহার হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ুর জন্মভূমি কুষ্টিয়ায়। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন পাচ বার। উনি অল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ৩১ বার। আমরা কিন্তু কুষ্টিয়ার মানুষ সেটা জানি না। এই প্রতিযোগীতার মাধ্যমে তরুন প্রজন্ম যুব সমাজ ড. কাজী মোতাহার হোসেন ও দাবা খেলা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি আরো বলেন, দাবা এমন একটি খেলা, যা মানুষের চিন্তাশক্তি, ধৈর্য, মনোযোগ ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই দাবাসহ সব ধরনের খেলাধুলার প্রসারে আমাদের আরও বেশি উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। আমি আশাকরি এই প্রতিযোগিতাটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
আয়োজকেরা বলেন, জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা কুষ্টিয়ায় দাবা খেলাকে আরও জনপ্রিয় করার পাশাপাশি বরিশাল ও খুলনা বিভাগের প্রতিভাবান দাবাড়ুদের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।
কুষ্টিয়ার মাটিতে জাতীয় পর্যায়ের এ দাবা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় দাবাপ্রেমীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, এ খেলায় খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল হতে ৪ (চার) জন খেলোয়াড় ৫০ তম জাতীয় ‘বি’ দাবা চ্যাম্পিয়শিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। তবে বিভিন্ন জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে খুলনার ৫জন ও বরিশালের ৪জন এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা থেকে একজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছে। আয়োজকরা জানান, এছাড়া বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত আসন ছাড়াও অন্যান্য খেলোয়াড়রা নিজ খরচে দ্বিগুন এন্ট্রি ফিসহ অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে এর আগে জানানো হয়েছিলো।









