খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৪ এএম

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে এক পরিবারের সদস্যদের ওপর পৃথক দুই দফায় হামলা, হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে সেই সালিশ চলাকালেই ফের ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে একজনকে রক্তাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা মো. শাব্দুল মন্ডল অভিযোগ করেন, এলাকায় মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলায় তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুন দুপুরে শাব্দুল মন্ডলের ছেলে মো. আনোয়ারুল শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ফিলিপনগর মাঠপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে। পরে তারা লাঠি, লোহার রড, হাতুড়ি, হাসুয়া ও রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
এ সময় আনোয়ারুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ছেলেকে রক্ষা করতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে আবির হোসেন ও আশিক গুরুতর আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলায় তাদের হাত ভেঙে যায়। এছাড়া সাব্বির আহত হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যবহৃত একটি টাচ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অপর দুই ভুক্তভোগীর কাছ থেকেও কয়েক হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা নিরসনে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ জুন সকালে ফিলিপনগর বাজারে সালিশ চলাকালীন পুনরায় সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় আশিকের মাথায় ধারালো হাসুয়া দিয়ে কোপ মারা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে আবারও তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় মো. রুহুল আমিন, মো. রায়হান, মো. সাগর হোসেন, মো. ছবি, মো. মাসুদ, মো. আলমগীর, মো. জাহাঙ্গীর, মোছা. রাশিয়া খাতুন, মো. রওশন, মো. রাসেল ও মো. নওশাদের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য